News Ticker
221.png

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে নেওয়ার বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩৯

শেয়ার

শেয়ার

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে নেওয়ার বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (Makkah Joint Defence Agreement) বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটে যোগ দেওয়ার আবেদন করলে তা সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করেই বিবেচনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ অবস্থান জানান। বাংলাদেশ এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে—এমন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। নতুন কোনো দেশ এতে যুক্ত হতে চাইলে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা অনুরোধ পাওয়ার পর বিষয়টি বর্তমান সদস্য সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ, বাংলাদেশকে জোটে নেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তান এককভাবে সিদ্ধান্ত নেবে না। ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিন দেশের মধ্যে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে পাকিস্তানের মুখপাত্র তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে সরাসরি নাম উল্লেখ করেননি। ফলে এখন পর্যন্ত ঢাকার সদস্যপদ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে এরই মধ্যে ঢাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের স্বার্থ, অর্থনীতি ও জনগণের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা-অসুবিধা মূল্যায়ন করা হবে।

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে। 

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এই বিধানকে অনেক বিশ্লেষক ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে তিন দেশই জোর দিয়ে বলেছে, চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি।

বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিলে দেশের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজার সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গেও ঢাকার প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে।

তবে মক্কা চুক্তির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ধারা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত কিছু প্রশ্নও তৈরি করতে পারে। কোনো সদস্য রাষ্ট্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ওপরও রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাগত চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এ কারণে জোটে যোগদানের আগে এর দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা জোটে যোগদানের বিষয়টি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে একই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নয়াদিল্লির নজর কাড়ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের নানা ইস্যুতে টানাপোড়েন চলার মধ্যে ঢাকা যদি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতৃত্বাধীন কোনো যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোয় যুক্ত হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। 

সব মিলিয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক আবেদন এলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশও বলছে, দেশের স্বার্থ ও সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে আগামী দিনে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer