News Ticker
221.png

এবার বিশ্বের সব দেশকে সতর্ক করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০৪

আপডেট: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৪৩

শেয়ার

শেয়ার

এবার বিশ্বের সব দেশকে সতর্ক করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তা ইরানের দৃষ্টিতে বেআইনি মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন করার শামিল হবে।

শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানায়। তেহরান ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং অন্য দেশগুলোকে এসব নিষেধাজ্ঞা মেনে না চলার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো দেশ যেন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করে। তেহরানের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞা স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর বৈধ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ব্যাহত করছে।

ইরান আরও বলেছে, অন্য সরকারগুলো যেন এসব মার্কিন পদক্ষেপের ফলে তৈরি কোনো পরিস্থিতিকে স্বীকৃতি বা অনুমোদন না দেয়। 

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটন ইরান-সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান এবং ইরানের ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও রয়েছেন। একইসঙ্গে মিসরের Banque Misr-এর একটি ইউনিটের মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনের সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এর আগে মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোকেও চাপের মুখে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। ফলে তেহরানের নতুন সতর্কবার্তাকে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপের পাল্টা কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটি দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।

ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তেহরান কিছু শর্ত প্রস্তুত করছে। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণের বিষয় রয়েছে বলে জানা গেছে। 

এদিকে সংঘাতের অবসান ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী তেহরান সফর করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। 

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা এখনো পুনরায় শুরু হয়নি। ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে তেহরান নিষেধাজ্ঞাকে প্রতিহত করার পাশাপাশি নিজেদের শর্তে কূটনৈতিক সমাধানের বার্তা দিচ্ছে। 

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পাল্টা সতর্কবার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে একই সময়ে মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের শর্ত তৈরির উদ্যোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও খোলা রাখছে তেহরান।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer