গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট এখনো কাটেনি। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজার জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক পরিবার—৪৬ শতাংশ—গত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্তত একবার ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, ১০ বারেরও বেশি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটাতে হয়েছে।
ডব্লিউএফপির আগস্টের খাদ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, খাদ্যের সংকট ও বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে গাজার বহু পরিবারকে প্রতিদিনের খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ২১ শতাংশ পরিবার দিনে মাত্র একবেলা খাবার খাচ্ছে। একই সময়ে প্রায় ৩৮ শতাংশ পরিবার প্রতিদিনের খাবারের সংখ্যা কমিয়েছে।
খাদ্যসংকটের ভয়াবহতার আরেকটি দিকও তুলে ধরেছে ডব্লিউএফপি। জরিপে প্রায় ১৭ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তারা প্রতিদিন শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে।
অর্থাৎ, পরিবারের সীমিত খাদ্য শিশুদের জন্য রেখে দিতে অনেক বাবা-মাকে নিজেদের খাবার কমাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরিবারগুলোর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
ডব্লিউএফপির বিশ্লেষণ বলছে, গাজায় শুধু খাবারের সরবরাহই সমস্যা নয়; বাজারে পৌঁছানো এবং খাবার কেনার সক্ষমতাও বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিবার বাজারে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে সমস্যার কথা জানিয়েছে। নগদ অর্থের সংকট এবং খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে বাজারে কোনো কোনো পণ্য পাওয়া গেলেও অনেক পরিবারের পক্ষে তা কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
গাজায় খাদ্যসংকটের সঙ্গে ত্রাণ সরবরাহের সীমাবদ্ধতাও যুক্ত হয়েছে। ডব্লিউএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ২১৭টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। অথচ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিদিন প্রায় ৬০০টি ট্রাক প্রবেশের কথা ছিল।
ডব্লিউএফপি বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় কম ত্রাণ প্রবেশ করায় খাদ্যসহ জরুরি পণ্য সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কিছু খাদ্যনিরাপত্তা সূচকে উন্নতি দেখা গেলেও সংকট শেষ হয়ে যায়নি। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএফপি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গাজার ৬৭ শতাংশ মানুষ এখনো তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে এবং ২ লাখের বেশি মানুষ জরুরি পর্যায়ের (IPC Phase 4) খাদ্যসংকটে রয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, মানবিক সহায়তা কমে গেলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে পারে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর খাদ্যনিরাপত্তায় কিছুটা উন্নতি হলেও গাজার মানুষের জন্য পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। শিশুদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির প্রভাবও রয়ে গেছে।
ডব্লিউএফপি বলছে, গাজায় খাদ্যসংকট মোকাবিলায় নিয়মিত ও পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা দূর করা এবং বাজারে মানুষের নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
আরও পড়ুন:







