News Ticker
221.png

মিনাবের স্কুলে হামলার ক্ষত ইরান কোনোদিন ভুলবে না: আরাঘচি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১২

শেয়ার

শেয়ার

মিনাবের স্কুলে হামলার ক্ষত ইরান কোনোদিন ভুলবে না: আরাঘচি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ইরানের জনগণ কোনোদিন ভুলবে না এবং এর জন্য দায়ীদের ক্ষমাও করবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তেহরানে মিনাব স্কুলে নিহত শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের স্মরণে আয়োজিত একটি শিল্প ও চিত্রপ্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। আরাঘচি বলেন, ওই হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা এখন ইরানের মানুষের কাছে একটি ‘বীরত্বপূর্ণ প্রতীক’ হয়ে উঠেছে। 

আরাঘচির ভাষায়, মিনাব স্কুলে হামলার ঘটনা ইরানের মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। নিহত শিশু ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতি দেশটির জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।

তিনি বলেন, মিনাবের স্কুলশিক্ষার্থীরা এখন শুধু একটি হামলার ভুক্তভোগী নন; তারা ইরানের মানুষের কাছে বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাদের স্মৃতি ধরে রাখার পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও অব্যাহত থাকবে। 

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলা হয়। হামলার পরপরই ব্যাপক হতাহতের খবর আসে এবং সময়ের সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

ইরানি কর্মকর্তাদের হিসাবে, হামলায় শেষ পর্যন্ত ১৬৮ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ছিলেন। আরও শতাধিক মানুষ আহত হন বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হামলাটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের শুরুর দিকের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে ওঠে। স্কুলটি লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না এবং কীভাবে হামলাটি সেখানে আঘাত হানে—তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

মিনাবের স্কুলে হামলার দায় ও লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ইরান হামলাটিকে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সময় পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। 

এ কারণে হামলাটি নিছক লক্ষ্যভ্রষ্ট আঘাত ছিল, নাকি লক্ষ্য নির্ধারণ ও গোয়েন্দা তথ্যের গুরুতর ব্যর্থতার ফল—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।

হামলার প্রায় ছয় মাস পরও মিনাবের স্কুলটি ইরানের জাতীয় স্মৃতিতে একটি গভীর বেদনার প্রতীক হয়ে আছে। নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবার এখনো প্রিয়জন হারানোর শোক বয়ে বেড়াচ্ছে।

জুলাই মাসেও হামলায় নিহত শিক্ষার্থীদের কিছু দেহাবশেষ শনাক্ত ও দাফন করা হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় নিহত ৩২ শিক্ষার্থীর দেহাবশেষের নতুন অংশ উদ্ধার হওয়ার পর তাদের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়। 

মিনাব স্কুলে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধের আইন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে একটি বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিশু উপস্থিত থাকা অবস্থায় কীভাবে সেখানে সামরিক হামলা আঘাত হানল, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি উঠেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার আগে লক্ষ্যবস্তুসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে সতর্কতা ছিল। এসব তথ্যের যথাযথ যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

আরাঘচির সর্বশেষ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, মিনাব স্কুলে হামলার বিষয়টি ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ইস্যু হয়ে আছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগেও হামলার পর বলেছিলেন, নিরপরাধ শিশুদের হত্যার ঘটনা জবাবহীন থাকবে না। এবার তিনি আরও স্পষ্ট করে জানালেন, ইরানের জনগণ এই ঘটনা ভুলবে না এবং ক্ষমাও করবে না। 

এর ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যেকোনো কূটনৈতিক আলোচনায় মিনাব স্কুলে হামলার বিষয়টি রাজনৈতিক ও মানবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকতে পারে।

ChannelNRB Footer