ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু। শুক্রবার রাতে কিয়েভের পশ্চিমে বুচা জেলার মিলা এলাকায় এ হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রুশ ড্রোনের আঘাতে গুদামটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর সেখানে মজুত থাকা গোলাবারুদ ও অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রীতে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের পরিচর্যা কেন্দ্রও ক্ষতির মুখে পড়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মিলা এলাকার ওই স্থাপনাটি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন ছিল এবং সেখানে গোলাবারুদ, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল। হামলার পর গুদামে বিস্ফোরণ শুরু হয়।
হামলার পর অস্ত্র ও বিস্ফোরক আবাসিক এলাকার এত কাছে কেন রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে। জেলেনস্কি বলেছেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছে এ ধরনের গোলাবারুদ রাখা উচিত ছিল না। ঘটনার জন্য সম্ভাব্য অবহেলার অভিযোগে ফৌজদারি তদন্তও শুরু হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রসিকিউটররা গুদামে বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণের বৈধতা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না এবং নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করছেন।
এদিকে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কি বলেছেন, এর আগে জুলাই মাসেও কিয়েভ অঞ্চলের ভিশনেভে একই ধরনের একটি ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছিল। সেই ঘটনার পরও প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেওয়া হয়নি বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর মিলা ও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, প্রায় ৩৭০ থেকে ৪০০ মানুষকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
হামলায় নিহতদের মধ্যে পাশের একটি এলাকার স্থানীয় নেতা তারাস দিদিচও রয়েছেন। তিনি বিস্ফোরণের পর উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ড্রোন-সংক্রান্ত উপকরণ ও অন্যান্য অস্ত্র অবকাঠামো। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অস্ত্রভাণ্ডারের অবস্থান ও সেখানে গোলাবারুদ সংরক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা তদন্ত শুরু হয়েছে।
কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা টানা তৃতীয় দিনেও অব্যাহত ছিল। ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন এলাকায় পৃথক রুশ হামলায় আরও দুজন নিহত ও ২৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মিলা এলাকার বিস্ফোরণটি ২০২৬ সালে কিয়েভ অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরও পড়ুন:







