News Ticker
221.png

পাকিস্তানে ঘন ঘন ওঠানামা করছে তুরস্কের সামরিক বিমান, চিন্তায় ভারত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৪১

শেয়ার

শেয়ার

পাকিস্তানে ঘন ঘন ওঠানামা করছে তুরস্কের সামরিক বিমান, চিন্তায় ভারত
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের অস্বাভাবিক ও ঘন ঘন যাতায়াত ঘিরে ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১৯ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৬০ ঘণ্টায় একাধিক তুর্কি সামরিক বিমান পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে যাতায়াত করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ওপেন-সোর্স ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য ও ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের C-130 Hercules এবং A400M সামরিক পরিবহন বিমান পাকিস্তানের নূর খান, মাসরুর ও মুরিদ বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। একটি বিমানের কলসাইন হিসেবে TUAF526-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। 

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এসব বিমানে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করা হয়েছে তা নিয়ে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে ধারণা করা হচ্ছে, তুরস্ক পাকিস্তানে ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিংবা অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়ে থাকতে পারে।

কিছু প্রতিবেদনে তুরস্কের তৈরি Baykar-এর বিভিন্ন মানববিহীন ব্যবস্থা এবং Asisguard-এর ড্রোন সিস্টেম পাকিস্তানে পাঠানোর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব দাবির কোনোটি এখনো তুরস্ক বা পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ফলে বিমানগুলোর কার্গো সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। 

তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নয়াদিল্লির নজরও বেড়েছে।

বিশেষ করে আগস্টের শুরুতে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর তুরস্কের সামরিক বিমানের পাকিস্তানমুখী তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওই চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছে। 

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই ধরনের সামরিক সহযোগিতা পাকিস্তানের ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তৈরি হলে পাকিস্তান তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি ও সহায়তা আরও বেশি পেতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানগুলো কয়েক দফায় পাকিস্তানে যাতায়াত করেছে। বিশেষ করে নূর খান ও মাসরুর বিমানঘাঁটিতে তাদের উপস্থিতি নজরে আসে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম India Today জানিয়েছে, তিন দিনের এই তৎপরতার ধরনকে গোয়েন্দা মহলে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়েছে। 

তবে শুধু বিমান চলাচলের তথ্যের ভিত্তিতে এসব ফ্লাইটে অস্ত্র বা ড্রোনই ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সামরিক পরিবহন বিমান প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, লজিস্টিক সহায়তা কিংবা অন্যান্য সরকারি কাজেও ব্যবহার করা হতে পারে।

ভারত এর আগেও অভিযোগ করেছে যে চীন ও তুরস্ক পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের সময় পাকিস্তান তুরস্কের তৈরি ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে বলে ভারতীয় পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল।

তবে এসব সহায়তার নির্দিষ্ট পরিমাণ ও সাম্প্রতিক ফ্লাইটগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

তুরস্ক-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্কের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের সামরিক অংশীদারিত্বের বিস্তার ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, তুরস্ক-পাকিস্তান-সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বাংলাদেশও মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসেছে, যা ভারতের কৌশলগত হিসাবকে আরও জটিল করতে পারে। 

সূত্র: দি ইকোনমিক টাইমস

ChannelNRB Footer