নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পর উদ্ধার হওয়া শত শত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মরদেহগুলোর অনেকগুলো দীর্ঘ সময় পানিতে ও কাদায় থাকার কারণে পচন ধরেছে বা বিকৃত হয়ে গেছে। একই সঙ্গে মর্গে জায়গার সংকট এবং পর্যাপ্ত ফরেনসিক সক্ষমতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নেপালের ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় বিপুল প্রাণহানির পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া অনেক মরদেহের সঙ্গে কোনো পরিচয়পত্র বা শনাক্তকারী নথি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে মরদেহ সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণ। বিভিন্ন শহরের মর্গ ও অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্রে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মরদেহ জমা হচ্ছে। সীমিত কোল্ড-স্টোরেজ সুবিধা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের ঘাটতিও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ মরদেহ দাফনের আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। এতে পরবর্তী সময়ে স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে।
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে হাসপাতাল, মর্গ ও অস্থায়ী মরদেহকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেক পরিবার এখনো প্রিয়জন জীবিত আছেন—এমন আশায় অপেক্ষা করছে।
২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপাল ও তিব্বতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬৬৯-এ পৌঁছেছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যায় ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও কঠিন হয়ে পড়েছে। নদীর স্রোতে মরদেহ বহু দূরে ভেসে যাওয়ায় বিভিন্ন জেলা এমনকি সীমান্তের ওপারেও মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
আরও পড়ুন:







