News Ticker
221.png

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:২৮

শেয়ার

শেয়ার

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA) রোববার সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবরণীতে এ তথ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ৪৯৮ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। 

নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। বোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানির প্রবল স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বহু সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকারি হিসাবে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়—২৫৯টি। এরপর নওয়ালপরাসি পূর্বে ১৮৪টি, নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ৮২টি, গোরখায় ৫৮টি, নুওয়াকোটে ৫২টি, ধাদিংয়ে ৫০টি, তানাহুনে ৩৬টি এবং রাসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী এবং ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে থাকা ১২৭ জন নেপালিও নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন।

বন্যার পানির তোড়ে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু শ্রমিক প্রকল্পের সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছেন। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে এরই মধ্যে শত শত মানুষকে দুর্গত এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

নেপাল সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী বড় আকারে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। সরকারি হিসাবে প্রায় ১৯ হাজার ৮৯৫ জন নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত রয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বোটেকোশি নদীর পানি আবারও বাড়তে থাকায় রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিংসহ নদীতীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোকেও বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের হিমালয় অঞ্চলে একটি বড় হিমবাহের অংশ ধসে পড়ার পর আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও পানি নিচের দিকে নেমে আসে। এর ফলে নদীর পানি অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে প্রায় ৫,২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে নিচে নেমে আসার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাভাবিক উষ্ণতা ও হিমবাহের দ্রুত পরিবর্তন এ ধরনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। 

নেপালের ৭৩৪ মৃত্যুর পাশাপাশি চীনের তিব্বত অঞ্চলে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে, আর নিখোঁজের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৪ জন। 

নেপাল ও চীন—দুই দেশেই এখনো ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। দুর্গত এলাকায় খাবার, চিকিৎসা সামগ্রী ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধান এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্ত করার কাজও চলছে।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

 

ChannelNRB Footer