News Ticker
221.png

নেপালের রাসোয়ায় প্লাবিত সুড়ঙ্গে ৪০০ শ্রমিক আটকা পড়ার আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৪৪

শেয়ার

শেয়ার

নেপালের রাসোয়ায় প্লাবিত সুড়ঙ্গে ৪০০ শ্রমিক আটকা পড়ার আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপালের রাসুয়া জেলার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একাধিক সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় উদ্ধার সংস্থা ও কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু হাক্কু-২১৬ এলাকার কয়েকটি সুড়ঙ্গেই ৩০০ থেকে ৪০০ শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে প্রায় তিন দিন ধরে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর রাসুয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রবল স্রোতে সড়ক, সেতু ও যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সুড়ঙ্গগুলোর প্রবেশপথের অনেক অংশ কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষে বন্ধ হয়ে গেছে। 

নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের (NMA) একটি উদ্ধার দল সুড়ঙ্গগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও বিপুল পরিমাণ কাদা ও পানি এবং ভেতরের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তারা এগোতে পারেনি। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের জন্য অক্সিজেন ও অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। 

NMA জানিয়েছে, দ্রুত উদ্ধার অভিযানের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পানি নিষ্কাশন পাম্প, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর ব্যবস্থা, উন্নত অনুসন্ধান ও শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং দড়ি ও ক্লোজড-স্পেস রেসকিউ সরঞ্জাম প্রয়োজন। একই সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্র, লাইফ-সাপোর্ট ব্যবস্থা ও জরুরি চিকিৎসা দল প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

রাসুয়ার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধারকারীরা একটি কেবল অ্যাক্সেস টানেল শনাক্ত করেছেন, যা মূল সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর বিকল্প পথ হতে পারে। নেপাল আর্মি, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (NEA) ও সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞদের যৌথ দল এই পথটি শনাক্ত করে। ইতোমধ্যে শ্রমিকদের কাছে অক্সিজেন পৌঁছানোর জন্য সুড়ঙ্গে কয়েকটি ছিদ্রও করা হয়েছে। 

NEA-এর তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশুলি-৩এ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ পাওয়ারহাউসে কাজ করা প্রায় ৪০ থেকে ৪২ জন কারিগরি কর্মী বন্যার সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা এখন ওই পথ ব্যবহার করে ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও শ্রমিকদের বের করে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে ওঠায় নেপাল স্থানীয় বাহিনীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তাও নিচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারত ও চীনের বিশেষায়িত সুড়ঙ্গ উদ্ধার দল রাসুয়ায় উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি আকাশপথে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

নেপাল আর্মি, প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারীরা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সুড়ঙ্গে প্রবেশের পথ তৈরি করছেন। কিছু এলাকায় ড্রিলিং করে ভেতরে বাতাস পাঠানোর পাশাপাশি ক্যামেরা ঢুকিয়ে শ্রমিকদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। 

উদ্ধারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অব্যাহত বৃষ্টি, নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ এবং পাহাড়ি ভূখণ্ডের অস্থিতিশীলতা। নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সুড়ঙ্গে সরাসরি প্রবেশের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সূত্র: দ্য হিমালয়ান টাইমস

ChannelNRB Footer