নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯০৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪,২৪৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক জলপ্রবাহের সূত্রপাত হয়। বোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও কাদামাটির স্রোত তৈরি করে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা মরদেহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার করা হচ্ছে। সরকারি হিসাবে চিতওয়ান জেলায় সবচেয়ে বেশি ২৭২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পূর্ব নাওয়ালপারাসিতে ২০৭টি এবং পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে ১৫১টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নুওয়াকোট, গোরখা, ধাদিং, তানাহুন ও রাসুয়াতেও বহু মরদেহ পাওয়া গেছে।
মরদেহের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় বিভিন্ন স্থানে সেগুলো সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণ নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় পানিতে ও কাদায় থাকার কারণে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি পরিচয় শনাক্তের জন্য অন্যান্য পদ্ধতিও ব্যবহার করছে।
উদ্ধারকারীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর টানেল। কয়েকশ শ্রমিক সেখানে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপালি সেনাবাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি ও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ব্যবহার করে টানেলের মুখে জমে থাকা মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর চেষ্টা করছে। ভারত ও চীনের উদ্ধারকারী দলও এ কাজে সহায়তা করছে।
নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় পৌঁছানো এখনও কঠিন হয়ে আছে।
দুর্যোগের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কয়েকটি নদীর পানি আবারও বাড়তে থাকায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে বোটেকোশি নদীর পানি বৃদ্ধিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও অব্যাহত রয়েছে।
এই দুর্যোগের প্রভাব নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বত অঞ্চলেও পড়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে সেখানে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে দুই দেশ মিলিয়ে প্রাণহানি ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৪,৮০০-তে পৌঁছেছে।
উদ্ধারকাজ চললেও প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা এবং নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা অভিযানকে কঠিন করে তুলছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
সূত্র: 'দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
আরও পড়ুন:







