হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) সদস্যরা সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের উদ্দেশ্যে রকেট প্রস্তুত করছিলেন। আন্তর্জাতিক নৌপথে মাইন বসানোর সম্ভাবনা ঠেকাতেই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন হামলার পর ইরান এটিকে ‘মারাত্মক ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা সামরিক ও অর্থনৈতিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। এরপর ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্য প্রচার করা হয়। জর্ডানের সেনাবাহিনী পরে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় লারাক দ্বীপে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে।
নতুন করে সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে প্রণালিটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালিতে খাসাবের উত্তরে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠে যায় বলে বাজার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব জ্বালানি, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং এর পর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে আবারও সরাসরি সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের একটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







