যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের মন্টগোমেরি কাউন্টিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইন্টারস্টেট-২৭০ (I-270) মহাসড়কে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন ৪৬ বছর বয়সী মুসাম্মাত শামিমা বেগম এবং তার ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আরিবাহ জাহিন।
মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৬ মিনিটে, ডেমোক্রেসি বুলেভার্ডের ঠিক দক্ষিণে I-270-এর দক্ষিণমুখী লেনে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি ফোর্ড মুস্তাং ভুল দিক দিয়ে—উত্তরমুখী লেনে—দক্ষিণমুখী পথে চলছিল। একপর্যায়ে সেটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি টয়োটা ক্যামরির সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
শামিমা বেগম ও তার মেয়ে আরিবাহ জাহিন টয়োটা ক্যামরির যাত্রী ছিলেন। সংঘর্ষে তারা গুরুতর আহত হন এবং পরে তাদের মৃত্যু হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুজনই যথাক্রমে ভার্জিনিয়ার বার্ক ও আলেকজান্দ্রিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
গাড়িটিতে থাকা আরও দুজন—৬২ বছর বয়সী এক পুরুষ চালক এবং ৮ বছর বয়সী এক শিশু—আহত হয়েছেন। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত ফোর্ড মুস্তাংয়ের চালকও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
পুলিশ জানিয়েছে, ফোর্ড মুস্তাংয়ের চালক ৩২ বছর বয়সী হোসে কাবায়েরো নোলাসকো, যিনি মেরিল্যান্ডের জার্মানটাউন এলাকার বাসিন্দা। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, দুর্ঘটনার সময় তিনি I-270-এর দক্ষিণমুখী লেনে উল্টো পথে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
তদন্তকারীরা আরও মনে করছেন, চালকের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত এখনও চলমান এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ নির্ধারণে পুলিশ কাজ করছে।
হোসে কাবায়েরো নোলাসকোর বিরুদ্ধে দুইটি gross negligent manslaughter, দুইটি alcohol-impaired driving-এর কারণে homicide by motor vehicle এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে গাড়ি চালানোর একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে মন্টগোমেরি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। আদালতে পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর তদন্ত ও উদ্ধারকাজের জন্য I-270-এর সংশ্লিষ্ট অংশ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের ক্র্যাশ টিম ঘটনাটির তদন্ত করছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং অন্য কোনো বিষয় এতে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







