News Ticker
221.png

রুশ হামলায় ইউক্রেনে ১ কোটি ২০ লাখ বই ধ্বংস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৪৩

শেয়ার

শেয়ার

রুশ হামলায় ইউক্রেনে ১ কোটি ২০ লাখ বই ধ্বংস
ছবি: সংগৃহীত

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর ঠিক আগে ইউক্রেনের প্রকাশনা ও মুদ্রণ অবকাঠামোর ওপর রুশ হামলায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটির শিক্ষা ও প্রকাশনা খাত। সাম্প্রতিক কয়েক দফা হামলায় দেশজুড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বই ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্কুলের পাঠ্যপুস্তক রয়েছে। এতে নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে প্রয়োজনীয় বই পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা ১ সেপ্টেম্বর। এর ঠিক আগে রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলার একটি অংশে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, মুদ্রণ কারখানা, বইয়ের গুদাম ও সরবরাহকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ইউক্রেনের খারকিভে ‘রানোক’ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে ১ আগস্টের রুশ হামলায় প্রায় ৮০ লাখ বই ধ্বংস হয়। প্রতিষ্ঠানটি স্কুলের পাঠ্যপুস্তকসহ বিপুলসংখ্যক বই প্রকাশ ও বিতরণ করে থাকে। ওই হামলা ইউক্রেনের প্রকাশনা খাতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

এর আগে জুলাই ও আগস্টে বিভিন্ন মুদ্রণ ও গুদাম স্থাপনায় হামলায় আরও কয়েক মিলিয়ন বই ধ্বংস হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি গ্রীষ্মে ধ্বংস হওয়া বইয়ের সংখ্যা ইউক্রেনের এক বছরের মোট বই উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান বলে প্রকাশনা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বই ধ্বংসের পাশাপাশি স্কুলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন পাঠ্যপুস্তকের ঘাটতি। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের হিসাবে রুশ হামলায় প্রায় ১২ লাখ পাঠ্যপুস্তক ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বইয়ের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। 

ইউক্রেনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া বইগুলোর পুনর্মুদ্রণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সব বই দ্রুত ছাপিয়ে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অস্থায়ীভাবে ইলেকট্রনিক সংস্করণ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের স্কুলগুলো নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু রুশ হামলায় শিক্ষা অবকাঠামোর পাশাপাশি বই ছাপানো ও সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।

শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাঠ্যপুস্তকের ঘাটতি পূরণে পুনর্মুদ্রণ এবং ডিজিটাল বইয়ের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। তবে নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী তৈরি কিছু বইয়ের বিকল্প দ্রুত তৈরি করা সম্ভব নয়।

প্রকাশনা শিল্পের ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইউক্রেনের বৃহত্তর লজিস্টিকস সংকট। সাম্প্রতিক রুশ হামলায় খাদ্য, খুচরা পণ্য ও বই সরবরাহের বিভিন্ন গুদাম ও বিতরণকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রুশ ড্রোন হামলার ধারাবাহিকতা পঞ্চম দিনে পৌঁছেছে। এসব হামলায় গুদাম, আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। 

ইউক্রেনের প্রকাশনা খাতের জন্য বই ধ্বংসের ঘটনা কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়; এর সাংস্কৃতিক প্রভাবও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেনীয় ভাষার বই এবং নতুন শিক্ষাক্রমের পাঠ্যপুস্তক ধ্বংস হওয়ায় প্রকাশক ও শিক্ষাবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইউক্রেনিয়ান বুক ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, যুদ্ধের মধ্যে দেশের প্রকাশনা শিল্প টিকিয়ে রাখা ইউক্রেনের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও শিক্ষাব্যবস্থা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer