News Ticker
221.png

ভারতে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ১১

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:০২

শেয়ার

শেয়ার

ভারতে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ১১
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বী জেলায় একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে জেলার পিপরি থানা এলাকার মানোরি গ্রামের একটি আতশবাজি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের প্রয়াগরাজের এসআরএন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অমিত পাল জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর আহত ১১ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের বয়স চার থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। 

স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে পুরো কারখানাটি ধ্বংস হয়ে যায়। আশপাশের পাঁচ থেকে সাতটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারখানার প্রায় ৫০ মিটারের মধ্যে থাকা কয়েকটি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়ে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়। প্রথম বিস্ফোরণের পর কারখানায় মজুত আতশবাজিতে আগুন ধরে গেলে একের পর এক আরও বিস্ফোরণ ঘটে। পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), দমকল ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করেছেন। 

ঘটনাস্থলে দুই ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্স এবং একাধিক দমকলের গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বিস্ফোরণের তীব্রতার কারণে ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে যাওয়া দিল্লি-হাওড়া রেলপথে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একটি ট্রেনকে পেছনে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং আরও একটি ট্রেনকে বিকল্প স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে রেল চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। 

ঠিক কী কারণে কারখানাটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানায় থাকা বিপুল পরিমাণ দাহ্য ও বিস্ফোরক উপকরণে আগুন লাগার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

কারখানাটিতে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কারখানাটির কার্যক্রম ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা বলা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি করে এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর কারখানার মালিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের খবরও পাওয়া গেছে। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস 

ChannelNRB Footer