News Ticker
221.png

অ্যাপলের সিইও হিসেবে আবেগঘন বিদায় নিলেন টিম কুক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৫৭

শেয়ার

শেয়ার

অ্যাপলের সিইও হিসেবে আবেগঘন বিদায় নিলেন টিম কুক
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৫ বছরের নেতৃত্বের পর অ্যাপল-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন টিম কুক। ৩১ আগস্ট ছিল তাঁর সিইও হিসেবে শেষ কর্মদিবস। বিদায়ের আগে কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক আবেগঘন বার্তায় সহকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। 

তবে অ্যাপল থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না কুক। সিইও পদ ছাড়ার পর তিনি কোম্পানির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দীর্ঘদিনের অ্যাপল নির্বাহী জন টার্নাস, যিনি ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।

সিইও হিসেবে শেষ দিনে অ্যাপলের কর্মীদের কাছে পাঠানো বার্তায় কুক লেখেন, এই দিনটি একসময় আসবে—এটা তিনি সবসময় জানতেন। কিন্তু বাস্তবে সেই মুহূর্তে এসে তাঁর কাছে বিষয়টি বিশ্বাস করাও কঠিন মনে হয়েছে।

কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কুক বলেন, অ্যাপলের সাফল্য কোনো একজন ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। বরং সম্মিলিতভাবে কাজ করা মানুষের প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একই ধরনের মূল্যবোধই প্রতিষ্ঠানটিকে এত দূর নিয়ে গেছে। 

তিনি জানান, অ্যাপলের হয়ে এই কাজ তিনি মিস করবেন। একই সঙ্গে কর্মীদের উদ্দেশে ভবিষ্যতেও উৎকর্ষের জন্য কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

অ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন কুক। ২০১১ সালে স্টিভ জবসের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দেড় দশক কোম্পানিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। 

জবসের মৃত্যুর পর অ্যাপলের নেতৃত্বে কুক কীভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নেবেন, তা নিয়ে শুরুতে অনেক প্রশ্ন ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের নেতৃত্বের ধরন প্রতিষ্ঠা করেন এবং অ্যাপলকে শুধু আইফোননির্ভর হার্ডওয়্যার কোম্পানি না রেখে বিভিন্ন সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় আরও বিস্তৃত করেন। 

কুকের নেতৃত্বে অ্যাপল এক অভূতপূর্ব আর্থিক ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে গেছে। তাঁর সময়ে আইফোনের পাশাপাশি অ্যাপ স্টোর, আইক্লাউড, অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল টিভি+, অ্যাপল পে এবং অন্যান্য সেবা ব্যবসা কোম্পানির আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, কুকের ১৫ বছরের নেতৃত্বে অ্যাপলের বাজারমূল্য প্রায় ৪.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় কোম্পানির শেয়ারমূল্যও কয়েক হাজার শতাংশ বেড়েছে। 

অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস ও অ্যাপল টিভির মতো পণ্য ও সেবার বিস্তারও তাঁর আমলেই হয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা, উৎপাদন এবং বিশ্বজুড়ে অ্যাপলের ব্যবসায়িক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

২০১১ সালে স্টিভ জবস সিইও পদ ছাড়ার পর কুক দায়িত্ব নেন। জবস ছিলেন মূলত পণ্য উদ্ভাবন, ডিজাইন ও প্রযুক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বিখ্যাত। অন্যদিকে কুকের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল পরিচালন দক্ষতা, সরবরাহব্যবস্থাপনা ও ব্যবসা সম্প্রসারণ।

কুকের নেতৃত্বে অ্যাপল তাই অনেকাংশে একটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও সেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তাঁর সময়েই কোম্পানির নিয়মিত আয় বাড়াতে সার্ভিসেস ব্যবসার ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হয়। 

শেষ বার্তায় কুক তাঁর উত্তরসূরি জন টার্নাসেরও প্রশংসা করেছেন। টার্নাসকে তিনি অত্যন্ত মেধাবী, সক্ষম ও নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দেন এবং ২০২১ সাল থেকে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস ও ভিশন প্রোর মতো পণ্যের হার্ডওয়্যার উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

কুকের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর টার্নাস এমন এক সময়ে অ্যাপলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি পুরো প্রযুক্তি খাতের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে এআই ক্ষেত্রে অ্যাপলকে গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। নতুন সিইওর জন্য অ্যাপলের এআই কৌশল, নতুন পণ্য উদ্ভাবন, সরবরাহব্যবস্থা এবং বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। 

সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপলের সঙ্গে কুকের সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। তিনি এখন কোম্পানির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে অ্যাপলের বৈশ্বিক সম্পর্ক, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কুকের অভিজ্ঞতা নতুন নেতৃত্বের জন্য সহায়ক হতে পারে।

টিম কুকের সিইও হিসেবে বিদায়ের মধ্য দিয়ে অ্যাপলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। স্টিভ জবস-পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। সেই দায়িত্ব পালনের পর এখন নেতৃত্বের ভার গেল জন টার্নাসের হাতে। 

ChannelNRB Footer