News Ticker
221.png

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শিশুসহ নিহত ৫, আহত ৬৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৫

শেয়ার

শেয়ার

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শিশুসহ নিহত ৫, আহত ৬৩
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৬৩ জন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইরানের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আলজাজিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে একটি বাড়িতে হামলাটি চালানো হয়। হামলার সময় ওই বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোসেইন কারমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, নিহতদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। হামলার পর ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জানান, হামলায় আহত ও নিহতদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন নারী ও শিশু। আহতদের উদ্ধার করে কাছের মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন তিনি। 

হামলার পর ঘটনাস্থলের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট। এসব দৃশ্যে একটি ভবনের দেয়াল ও জানালা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং আশপাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। হাসপাতালে আহত শিশুদের চিকিৎসা নেওয়ার ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। 

ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি এক শিশুর বক্তব্যও প্রকাশ করেছে, যে হামলা থেকে বেঁচে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পরপরই একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে এবং ইট, পাথর ও সিমেন্টের টুকরায় অনেকে আহত হন।

ইরানের অভিযোগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানে নতুন করে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। 

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সমুদ্রপথে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা, মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলটি মার্কিন হামলার সরাসরি লক্ষ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো মার্কিন স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি। 

সর্বশেষ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান ও মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জর্ডান, বাহরাইন, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য স্থাপনাও এই পাল্টাপাল্টি হামলার পরিধিতে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে আগের হামলাগুলোর ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। 

সূত্র: আল জাজিরা

ChannelNRB Footer