News Ticker
221.png

ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত: আইআরজিসি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৫

শেয়ার

শেয়ার

ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত: আইআরজিসি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, এসব হামলায় বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। 

ইরানের IRGC জানিয়েছে, জর্ডানের আকাবা উপসাগর এলাকায় মার্কিন মেরিন বাহিনীর একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে।

তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। অবশিষ্ট কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যন্ত এলাকায় পড়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইরান বলেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরাকি কুর্দিস্তানের এরবিল এলাকায় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান কুয়েতের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হ্যাঙ্গার ও অন্যান্য অবকাঠামোতে আঘাত হানার দাবি করেছে। তবে কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে ইরানে বিমান হামলার মধ্য দিয়ে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। 

এর পরই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানি সূত্রগুলো ওই ঘটনায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবি জোরালোভাবে প্রচার করা হলেও, এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে “বিপুল সংখ্যক” মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হয়নি।

Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পাশাপাশি কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবি করেছে; কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেননি। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় এসব দেশের ভূখণ্ডও সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়েছে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিতে অস্থিরতা বাড়ায় তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

ChannelNRB Footer