News Ticker
221.png

তুরস্ক উপকূলে দুই কার্গো জাহাজের সংঘর্ষ, একটি ডুবে নিখোঁজ ১০ নাবিক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫০

শেয়ার

শেয়ার

তুরস্ক উপকূলে দুই কার্গো জাহাজের সংঘর্ষ, একটি ডুবে নিখোঁজ ১০ নাবিক
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের ইস্তাম্বুল উপকূলের কাছে মারমারা সাগরে দুটি তুর্কি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের সংঘর্ষে একটি জাহাজ ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার পর ডুবে যাওয়া জাহাজটির ১০ নাবিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের উদ্ধারে সাগর ও আকাশপথে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। 

তুর্কি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৩টার দিকে ইস্তাম্বুলের সিলিভরি জেলার উপকূল থেকে প্রায় ১৮ নটিক্যাল মাইল দূরে দুটি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনাস্থলটি ইস্তাম্বুলের দক্ষিণে মারমারা সাগরে অবস্থিত।

সংঘর্ষে জড়িত জাহাজ দুটি হলো Alsu এবং Tugberk Imamoglu। এর মধ্যে Tugberk Imamoglu একটি কার্গো জাহাজ এবং Alsu একটি ট্যাংকার। দুর্ঘটনার পর Tugberk Imamoglu-এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে তুরস্কের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজটি ডুবে গেছে। জাহাজটির লাইফবোট ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রে পাওয়া গেলেও নিখোঁজ ১০ নাবিকের কাউকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুলকাদির উরালোগলুর বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া জাহাজটিতে অধিনায়কসহ মোট ১০ জন নাবিক ছিলেন এবং তারা সবাই তুরস্কের নাগরিক। সংঘর্ষের পর জাহাজটি অত্যন্ত দ্রুত ডুবে যায়—প্রায় ১১ মিনিটের মধ্যে এটি সমুদ্রের নিচে চলে যায় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাহাজটির লাইফবোট ও বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেলেও নাবিকদের জীবিত অবস্থায় কোনো সন্ধান পায়নি।

নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে তুরস্কের কোস্টগার্ড, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী ইউনিট অভিযান চালাচ্ছে। তল্লাশিতে একাধিক উদ্ধারকারী জাহাজ ও হেলিকপ্টার অংশ নিয়েছে। 

দুর্ঘটনাস্থলের সমুদ্রের গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজকে কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে সমুদ্রপথের পাশাপাশি আকাশপথেও অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

তুর্কি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, Tugberk Imamoglu ইস্কেন্দেরুন বন্দর থেকে কৃষ্ণসাগরের কারাদেনিজ এরেগলি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। জাহাজটিতে রোলড স্টিল বা ইস্পাতের পণ্য ছিল।

অন্যদিকে Alsu কোকেলি থেকে এজিয়ান সাগরের আলিয়াগা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। সংঘর্ষের পর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে Alsu জাহাজটির দৃশ্যমান বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে Tugberk Imamoglu-এর মালিকপক্ষ দাবি করেছে, সংঘর্ষের আগে তাদের জাহাজের ক্যাপ্টেন Alsu-কে সতর্ক করেছিলেন যে সেটি তাদের জাহাজের চলাচলের পথে প্রবেশ করছে।

মালিকপক্ষের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, Alsu-এর নেভিগেশন-সংক্রান্ত গতিবিধির কারণেই সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে Alsu-এর মালিকপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

মারমারা সাগর তুরস্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালির মাধ্যমে এটি কৃষ্ণসাগর ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরি করেছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ এই অঞ্চলের নৌপথ ব্যবহার করে।

এমন একটি ব্যস্ত নৌপথে দুই বাণিজ্যিক জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় নৌ-নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তুরস্কের উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ১০ নাবিককে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ সমুদ্র থেকে পাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও উদ্ধার-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছে।

সূত্র: এপি নিউজ

ChannelNRB Footer