ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১২ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের এই সহায়তা নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে। নেপালের উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পর আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল।
রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুর্যোগের পর থেকেই নেপালের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ। এর আগে বাংলাদেশ সরকার নেপালে ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে তাঁবু, মশারি, শুকনো খাবার, টর্চলাইট, কোদাল, স্লিপিং ব্যাগ, পানির পাত্র এবং মরদেহ বহনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাগ।
এবার আর্থিক সহায়তা হিসেবে ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি দুর্যোগের সময়ে বাংলাদেশের মানবিক অবস্থানকেও তুলে ধরছে।
প্রাথমিকভাবে এই অর্থ দুর্গত মানুষের জরুরি মানবিক প্রয়োজন পূরণে কাজে লাগানোর কথা রয়েছে। খাদ্য, আশ্রয়, পানি, চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ দুর্যোগ-পরবর্তী বিভিন্ন জরুরি খাতে অর্থটি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
বিশেষ করে পাহাড়ি দুর্গম এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা সেখানে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর আগেই নেপালকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের পূর্ণ সহযোগিতার কথা জানান।
বাংলাদেশের এই অবস্থানকে দুর্যোগের সময়ে প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশের পাশে দাঁড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগের পর বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। উদ্ধারকাজে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত দলও সহায়তা করছে। একই সঙ্গে খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সরঞ্জাম নিয়ে বিভিন্ন দেশ সহযোগিতা করছে।
এদিকে দুর্যোগের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় নেপালের সরকার উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও দুর্গত মানুষের পুনর্বাসন নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:







