তেল বা জ্বালানি চোরাচালানের অভিযোগে পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলীয় জলসীমা থেকে একটি বিদেশি জাহাজ জব্দ করেছে ইরান। এ সময় জাহাজটিতে থাকা ১১ বিদেশি ক্রু সদস্যকেও আটক করা হয়েছে। জাহাজটি থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দের দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) জানিয়েছে, বুধবার দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী একটি বিশেষ অভিযানে জাহাজটি আটক করে। অভিযানের আগে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য চোরাচালানের বিষয়ে একটি তথ্য পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী জাহাজটির ওপর নজরদারি শুরু করে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবাদান এলাকার কাছে জাহাজটিকে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে এতে প্রায় ৩ লাখ ৮২ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া যায়, যা চোরাচালানের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছে ইরান।
জাহাজটিতে থাকা ১১ জন বিদেশি ক্রু সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। তবে তাদের নাগরিকত্ব বা কোন দেশের পতাকাবাহী জাহাজটি—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়েও ইরানি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি
ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই জাহাজটি আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
ইরানে জ্বালানিতে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভর্তুকি রয়েছে। ফলে দেশটিতে জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে কম। একই সঙ্গে দেশটির মুদ্রার মূল্য কমে যাওয়ায় ইরান থেকে প্রতিবেশী দেশ ও উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি পাচারের প্রবণতা নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থল ও সমুদ্রপথে জ্বালানি চোরাচালান ঠেকাতে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ আটক এবং ক্রু সদস্যদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সামরিক উত্তেজনা, জাহাজ আটক এবং তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে ইরানের সর্বশেষ জাহাজ আটকের ঘটনা আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন:







