News Ticker
221.png

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০৪

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৪২

শেয়ার

শেয়ার

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০৪
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় এখনো ৪ হাজার ২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব দেওয়া হয়েছে। 

গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ব্যাপক পানির ঢল নেপালের ত্রিশূলী ও ভোতেকোশি নদী উপত্যকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া ও নুয়াকোটসহ সীমান্তবর্তী ও নদী অববাহিকার এলাকাগুলো। 

দুর্যোগের এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। বিশেষ করে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীদের উদ্ধারে জোর দেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধারকারীদের ধারণা, প্রায় ৯০০ জলবিদ্যুৎকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক এবং কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

রাসুয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ কয়েকটি স্থানে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে ভারত, চীন ও অন্যান্য দেশের বিশেষজ্ঞদের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। 

নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও শ্রমিকরাও ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। 

অনেক মরদেহের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে স্বজনদের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও এ কাজে নেপালকে সহায়তা করছেন।

বন্যার পানির স্রোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে দুর্গত এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। 

কাঠমান্ডু ও অন্যান্য এলাকায় উদ্ধার হওয়া মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। খাবার, পানি, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সহায়তাকারীরাও কাজ করছে।

নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসায় অনেক পরিবার প্রতীকী শেষকৃত্য শুরু করেছে। মরদেহ না পেলেও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এসব আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নিখোঁজ স্বজনদের শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে। 

নেপালে এ দুর্যোগকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনের তিব্বত অংশেও একই দুর্যোগে প্রাণহানি ঘটেছে। সেখানে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে নেপাল-তিব্বত মিলিয়ে এই দুর্যোগে মোট প্রাণহানি আরও বেশি।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer