মিশরের দক্ষিণ সিনাই প্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দাহাব ও নুওয়েইবা শহরের সংযোগ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ সিনাইয়ের দাহাব-নুওয়েইবা সড়কে। লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এই অঞ্চলটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এবং সমুদ্রসৈকত, প্রবালপ্রাচীর ও ডাইভিংয়ের জন্য পরিচিত।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে মিশরীয়দের পাশাপাশি জর্ডানের নাগরিকরাও ছিলেন। জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল-মামলাকার তথ্য অনুযায়ী, নিহত ২২ জনের মধ্যে অন্তত ১০ জন জর্ডানের নাগরিক। বাসটিতে মোট ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে জর্ডানের ওই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
তবে নিহত ও আহতদের পূর্ণ পরিচয় এবং জাতীয়তা সম্পর্কে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় অপারেশন কক্ষ সক্রিয় করে। আহতদের উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঘটনাস্থলে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। পরে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১৩ জনকে শার্ম এল-শেখ আন্তর্জাতিক হাসপাতালে, ৯ জনকে সেন্ট ক্যাথরিন হাসপাতালে এবং আরও ৬ জনকে আল-ফাইরুজ মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি কারিগরি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটিতে পরিবহন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দক্ষিণ সিনাই গভর্নরেট এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
তদন্তে বাসটির কারিগরি ও নিরাপত্তাগত অবস্থা, চালকের শারীরিক পরিস্থিতি এবং সড়কের অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে।
তবে মিশরের স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসটির একটি টায়ার ফেটে যাওয়ার পর এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যেতে পারে। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
দাহাব ও নুওয়েইবা মিশরের দক্ষিণ সিনাই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত এই এলাকায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মিশরে সড়ক দুর্ঘটনা একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। অতিরিক্ত গতি, সড়কের দুরবস্থা, যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়াকে দেশটির সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গত বছর দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন মিশরের প্রধানমন্ত্রী। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এপি নিউজ
আরও পড়ুন:







