অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে গত আগস্ট মাসে ৫ হাজার ২০৯ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট। একই মাসে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৮৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১১৪ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের আগস্টের মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো মাসজুড়ে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও এর প্রবেশপথগুলোতে বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ এবং ইহুদি ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনা অব্যাহত ছিল। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড ইসরায়েলি পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যে সংঘটিত হয়েছে।
গভর্নরেটের হিসাবে, আগস্টে মোট ৫,২০৯ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। এর মধ্যে ১৩ আগস্ট এক দিনেই ৭৫১ জন সেখানে প্রবেশ করেন, যা মাসটির সর্বোচ্চ দৈনিক সংখ্যাগুলোর একটি।
এ ছাড়া আরও ৩ হাজার ১১৭ জন পর্যটনের আওতায় আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ আল-আকসাকে মুসলমানদের পবিত্র উপাসনাস্থল হিসেবে বিবেচনা করে এবং মসজিদ প্রাঙ্গণে বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের বিরোধিতা করে আসছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ ঠেকাতে পাঁচটি আদেশ জারি করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-আকসা ঘিরে ইহুদি ধর্মীয় আচার বাড়ানোর আহ্বানও অব্যাহত ছিল। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনাকে মসজিদটির ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থান বা ‘স্ট্যাটাস কু’ পরিবর্তনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
আগস্টে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে নিহত দুই ফিলিস্তিনির নাম খলিল আব্বাস খলিল আল-আওয়ার এবং আহমেদ খলিল আব্বাস আল-আওয়ার।
জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্যমতে, ২৩ আগস্ট আল-আকসা মসজিদের দক্ষিণে সিলওয়ান এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তারা আহত হন। পরে তাদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় আরও পাঁচজনের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে গভর্নরেট।
গভর্নরেটের হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট মাসে অধিকৃত জেরুজালেমে ১১৪ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের কারাদণ্ড, প্রশাসনিক আটক, গৃহবন্দিত্ব ও বহিষ্কারের আদেশও জারি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আটকের পাশাপাশি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ৪৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব হামলায় ফিলিস্তিনি নাগরিক ও তাদের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আগস্টে জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, স্থাপনা ও জমি লক্ষ্য করে ৪০টি ধ্বংস ও ভূমি পরিষ্কারের অভিযান চালানোর তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।
একই সময়ে ধ্বংস, নির্মাণকাজ বন্ধ, উচ্ছেদ এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে ৮৬টি নোটিশ ও আদেশ জারি করা হয়েছে বলে জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে।
জেরুজালেমে বসতি সম্প্রসারণ কার্যক্রমও আগস্টে অব্যাহত ছিল। গভর্নরেটের প্রতিবেদনে ১৩টি বসতি পরিকল্পনা, প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে চারটি পরিকল্পনায় ১,২৪০টি বসতি ইউনিট নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এসব পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ৭৮.৭২১ ডুনাম জমি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১,৮৬১টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রকাশের কথাও জানানো হয়েছে।
আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান এবং জেরুজালেমের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর একটি। মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ, ধর্মীয় আচার এবং ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের আগস্টের পরিসংখ্যান সেই উত্তেজনার মাত্রা সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শুধু ওই মাসেই ৫,২০৯ জন বসতি স্থাপনকারীর প্রবেশের পাশাপাশি দুই ফিলিস্তিনি নিহত, ৮৩ জন আহত, ১১৪ জন আটক এবং ৪৪টি বসতি স্থাপনকারী হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন:







