News Ticker
221.png

১৬ বছরের ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, যুক্তরাজ্যে নারী শিক্ষিকার বিচার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:১৩

শেয়ার

শেয়ার

১৬ বছরের ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, যুক্তরাজ্যে নারী শিক্ষিকার বিচার
ছবি: সংগৃহীত

১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে ৩০ বছর বয়সী সাবেক এক নারী শিক্ষিকার বিচার চলছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম ব্রনওয়েন জেমস। তিনি সাউদাম্পটনের বিটার্ন পার্ক স্কুলে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

উইনচেস্টার ক্রাউন কোর্টে চলমান মামলায় জেমসের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে ‘position of trust’ বা আস্থাভিত্তিক দায়িত্বের অবস্থানে থেকে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। জেমস সবগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষিকা ও ছাত্রটির যোগাযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Snapchat-এর মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। প্রথমদিকে কথাবার্তা স্বাভাবিক থাকলেও পরে তা ফ্লার্টপূর্ণ ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, একপর্যায়ে জেমস ছাত্রটিকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে দুজন একসঙ্গে Wimbledon টেনিস দেখার সময় তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হয় বলে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছিল।

মামলার শুনানিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ব্যক্তিগত সময় শিক্ষিকা ছাত্রটিকে তাকে ‘Miss’ বলে সম্বোধন করতে বলতেন। তার ফোনে ছাত্রটির নম্বর ‘Number 8’ নামে সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন আরও অভিযোগ করেছে, জেমস ছাত্রটির প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছিলেন এবং ভবিষ্যতে দুজন একসঙ্গে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। 

আদালতে ছাত্রটির বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন দাবি করেছে, সম্পর্কের শুরুতে সে বিষয়টিকে উত্তেজনাপূর্ণ ও ইতিবাচক হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার কাছে বিষয়টি অনুচিত বলে মনে হয় এবং সে মনে করে, তাকে ধীরে ধীরে ওই সম্পর্কে জড়িয়ে ফেলা হয়েছিল।

মামলায় ‘grooming’ বা একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে ধীরে ধীরে অনুচিত যৌন সম্পর্কের দিকে প্রভাবিত করার বিষয়টিও প্রসিকিউশনের বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে এটি প্রসিকিউশনের অবস্থান; আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। 

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য এক শিক্ষার্থী জেমস ও ওই ছাত্রের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া কিছু বার্তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি স্কুলের এক শিক্ষকের কাছে জানান। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঘটনাটি সামনে আসে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে। 

ব্রনওয়েন জেমস অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ওই যোগাযোগ বা অভিযোগ তৈরি করে থাকতে পারে।

অর্থাৎ, মামলায় প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত তথ্যের পাশাপাশি অভিযুক্তের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে সরাসরি আপত্তি জানানো হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত। 

ব্রনওয়েন জেমসের বিরুদ্ধে এটিই একমাত্র যৌন অপরাধের মামলা নয়। ২০২৫ সালে তিনি শিশুদের সঙ্গে যৌন অপরাধসংক্রান্ত আরও কয়েকটি অভিযোগের মুখোমুখি হন। সে সময় তিনি একটি শিশুর সঙ্গে যৌন যোগাযোগের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন, তবে আরও ১১টি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

যুক্তরাজ্যে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ওপর দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের অবস্থানে থাকেন। তাই শিক্ষার্থীর বয়স ১৬ বা তার বেশি হলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘position of trust’ সংক্রান্ত বিশেষ আইন প্রযোজ্য হতে পারে।

এই মামলায়ও অভিযোগের মূল বিষয়গুলোর একটি হলো—জেমস শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন কি না।

উইল্টশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জেমসের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তিনি সবগুলো অস্বীকার করেছেন। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মামলাটি এখনো বিচারাধীন। 

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

ChannelNRB Footer