News Ticker
221.png

২৭ দিন মহাসাগরে ভেসে অবশেষে উদ্ধার, প্রাণ গেল ৮০ জনেরও বেশি অভিবাসীর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৯

শেয়ার

শেয়ার

২৭ দিন মহাসাগরে ভেসে অবশেষে উদ্ধার, প্রাণ গেল ৮০ জনেরও বেশি অভিবাসীর
ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টিক মহাসাগরে টানা ২৭ দিন ভেসে থাকার পর স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি অভিবাসীবাহী নৌকা থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ভয়াবহ এই যাত্রায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন Caminando Fronteras। নিহতদের মধ্যে নারী ও একটি শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্পেনের সমুদ্র উদ্ধার কর্তৃপক্ষের (Maritime Rescue) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রান কানারিয়া দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানকে ভাসমান অবস্থায় শনাক্ত করা হয়। নৌকাটি আর্গুইনেগুইন উপকূল থেকে প্রায় ৬৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ Guardamar Urania ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪৪ জনকে উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা জানিয়েছেন, নৌকাটি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে, যাত্রার শুরুতে নৌকাটিতে প্রায় ১২৭ থেকে ১২৮ জন মানুষ ছিলেন। প্রায় এক মাস ধরে আটলান্টিকে ভেসে থাকার পর নৌকাটি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৌঁছায়।

মানবাধিকারকর্মী ও Caminando Fronteras-এর প্রতিষ্ঠাতা হেলেনা মালেনো জানিয়েছেন, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী ৮৩ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে তিন নারী ও একটি শিশু ছিল বলে তিনি জানান। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা Reuters।

উদ্ধারকারীরা নৌকাটিতে পাঁচটি মরদেহ দেখতে পান। কিন্তু সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সে সময় সাগরে বাতাসের গতি ছিল প্রায় ২০ নট এবং ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় ২ দশমিক ৫ মিটার। 

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই ছিলেন প্রচণ্ড পানিশূন্য ও শারীরিকভাবে দুর্বল। রেড ক্রসের কর্মীদের কাছে তারা জানান, খাবার ও পানীয় ফুরিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কেউ কেউ সমুদ্রের পানি পান করতে বাধ্য হন। যাত্রাপথে মারা যাওয়া কয়েকজনের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন জীবিতরা।

উদ্ধার হওয়া ৪৪ জনের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা ছিল গুরুতর। তাদের হেলিকপ্টারে করে গ্রান কানারিয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাকি ৪১ জনকে সমুদ্রপথে আর্গুইনেগুইন বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর নাগরিক বলে জানিয়েছে রেড ক্রস। 

পশ্চিম আফ্রিকা থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর আটলান্টিক রুটটি বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসনপথ হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর হাজারো মানুষ অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও অনিরাপদ নৌযানে করে এই দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন।

উদ্ধারকারীরা বলছেন, দীর্ঘ যাত্রা, খাবার ও পানির সংকট, শক্তিশালী স্রোত এবং বৈরী আবহাওয়া এই রুটকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পথে বহু অভিবাসী নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের আঞ্চলিক নেতা ফার্নান্দো ক্লাভিহো এই ঘটনাকে গভীরভাবে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেছেন, আটলান্টিককে যেন অভিবাসীদের জন্য ‘মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে স্বাভাবিক করে নেওয়া না হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রাণহানি ঠেকাতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় অভিবাসন নীতি প্রয়োজন। 

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer