News Ticker
221.png

মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ৬ সদস্য নিহত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৫

শেয়ার

শেয়ার

মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ৬ সদস্য নিহত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সেনাবাহিনীর নৌবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ ইরানে চালানো মার্কিন হামলার সময় তারা নিহত হন বলে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় ইরানের আর্মি নেভির ছয় সদস্য নিহত হন। তবে হামলাটি ঠিক কোন স্থানে চালানো হয়েছিল এবং নিহত নৌসদস্যদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর অন্তত ১৩ সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নৌবাহিনীর ছয় সদস্য ছাড়াও ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীর তিন পাইলট নিহত হয়েছেন বলে তাসনিম জানিয়েছে।

এছাড়া লাওয়ান দ্বীপে তিনজন বাসিজ সদস্য এবং পশ্চিম ইরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মহাকাশ বাহিনীর চার সদস্য নিহত হওয়ার খবরও এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয় ও সংখ্যা নিয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতির পর আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়। এর আগে ৩০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালায় বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

এর পর ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। 

মার্কিন হামলার সময় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা হয়েছে বলে ইরানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন অবশ্য বলেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক তৎপরতার জবাব দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানসহ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরানি হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। 

কুয়েতের বিরুদ্ধে ইরানের হামলাও এই পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথগুলোর একটি এই জলপথে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাতের নতুন দফার প্রভাবে বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। 

সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল

ChannelNRB Footer