মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে এক এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী ও পডকাস্টারকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ৪০ বছর বয়সী বেনজামিন আজারিয়াহ সাউথওয়ার্থকে তাঁর ওয়েস্টলেকের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাউথওয়ার্থের বিরুদ্ধে তিনটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে—প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকি, সাইবারস্টকিং এবং আন্তঃরাজ্য যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে হয়রানিমূলক ফোনকল। মামলাটি তদন্ত করছে এফবিআই ও ইউএস সিক্রেট সার্ভিস।
ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি যে অভিযোগপত্র দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সাউথওয়ার্থ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিজস্ব ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য দেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানান। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ভিডিওসহ বিভিন্ন পোস্টে তিনি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সহিংসতার কথা বলেন এবং তাঁকে হত্যার পক্ষে বক্তব্য দেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এসব বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সরাসরি সহিংসতার হুমকিতে পরিণত হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের জীবননাশের হুমকি এবং সাইবারস্টকিংকে নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
শুধু ট্রাম্প নয়, তাঁর ব্যক্তিগত আইনজীবী ও ওই আইনজীবীর পরিবারের সদস্যদেরও হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে সাউথওয়ার্থের বিরুদ্ধে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীর বাড়ির ঠিকানা ও ছবি অনলাইনে প্রকাশ করেন। পরে আইনজীবীর ছেলে ও স্ত্রীকেও ফোনকল ও অনলাইন বার্তার মাধ্যমে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাউথওয়ার্থ তাঁর অনুসারীদের ওই আইনজীবীর বাড়িতে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে সাইবারস্টকিং ও আন্তঃরাজ্য টেলিফোন হয়রানির অভিযোগ আনে।
বেনজামিন আজারিয়াহ সাউথওয়ার্থ একজন পডকাস্টার, লেখক ও সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক। তিনি একসময় খ্রিষ্টানভিত্তিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘The Remix’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি নিজের যৌন পরিচয় প্রকাশ্যে জানান এবং এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে সক্রিয় হন। বর্তমানে তিনি ‘Yass, Jesus!’ নামে একটি পডকাস্ট পরিচালনা করতেন, যেখানে ধর্ম, যৌনতা ও পরিচয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টলেক এলাকায় সাউথওয়ার্থের বাসায় অভিযান চালানো হয়। এফবিআই এজেন্টরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে হাজির করার কথা ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে প্রেসিডেন্টকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর, সাইবারস্টকিংয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং আন্তঃরাজ্য টেলিফোন হয়রানির অভিযোগে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বক্তব্যের স্বাধীনতা ও সহিংসতার হুমকির সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত হলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি বা সহিংসতার আহ্বান আলাদা আইনি বিষয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইনে দেওয়া সহিংসতার হুমকির ক্ষেত্রেও আইন প্রয়োগ করা হবে। এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস কার্যালয়ও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টসহ অন্যদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানিকে সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আগেই মোকাবিলা করা হবে।
আরও পড়ুন:







