News Ticker
221.png

ইংল্যান্ডে দুই লরি ভর্তি বিয়ার চুরি, মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১৭

শেয়ার

শেয়ার

ইংল্যান্ডে দুই লরি ভর্তি বিয়ার চুরি, মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডে একটি শিল্পাঞ্চলের গুদাম থেকে দুই লরি ব্যবহার করে চুরি করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিয়ার। চুরি যাওয়া বিয়ারের পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার পিন্ট বা ৮০০ ব্যারেল। বিয়ার ও বহনের জন্য ব্যবহৃত দুটি ট্রেলারের মূল্যসহ পুরো চুরির ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা আনুমানিক সাড়ে ৩ কোটি টাকা।

ঘটনাটি ঘটেছে ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চেশায়ারের রানকর্ন এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাতে দুই ব্যক্তি পৃথক দুটি লরি নিয়ে একটি ডিপোতে ঢুকে সেখানে থাকা বিয়ারভর্তি দুটি এইচজিভি (হেভি গুডস ভেহিকল) ট্রেলার নিয়ে পালিয়ে যায়। 

চুরি যাওয়া বিয়ার ছিল জনপ্রিয় আইরিশ স্টাউট ব্র্যান্ড গিনেস। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দুটি ট্রেলারে থাকা প্রায় ৮০০ ব্যারেলে মোট আনুমানিক ৭০ হাজার ৪০০ পিন্ট গিনেস ছিল।

শুধু বিয়ারের বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ২ কোটি টাকার কাছাকাছি। এর সঙ্গে দুটি ট্রেলারের মূল্য যোগ করলে মোট চুরি যাওয়া সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার পাউন্ড।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম লরিটি রাত প্রায় ৭টা ৫৫ মিনিটে ডিপো থেকে একটি বিয়ারভর্তি ট্রেলার নিয়ে বেরিয়ে যায়। সেটি মার্সি গেটওয়ে ব্রিজের দিকে চলে যায়।

এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ৯টা ১২ মিনিটে দ্বিতীয় একটি লরি একই এলাকায় আসে। সেটিও আরেকটি বিয়ারভর্তি ট্রেলারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। দ্বিতীয় লরিটি রেইনহিল ও ওয়াটকিনসন ওয়ের দিক দিয়ে চলে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

পুলিশের ধারণা, দুটি ঘটনাই একই পরিকল্পিত চুরির অংশ এবং দুই লরির চালকই পুরুষ ছিলেন।

চুরির ঘটনাটি ঘটে রানকর্নের অ্যাস্টন লেনের হোয়াইটহাউস ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে। সেখানে গিনেসের মালিকানাধীন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ডিয়াজিওর একটি প্যাকেজিং ও গুদামজাতকরণ স্থাপনা রয়েছে।

চুরি যাওয়া বিয়ারগুলো বিভিন্ন পানশালায় সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, চুরি যাওয়া দুটি ট্রেলার ছিল সাদা রঙের ট্রাই-অ্যাক্সেল কার্টেন-সাইড ট্রেলার। এগুলোতে লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান GXO-এর ব্র্যান্ডিং ছিল।

দুটি ট্রেলারের শনাক্তকারী নম্বর ছিল DL736 ও DL542। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এসব নম্বর এবং আশপাশের সড়কের সিসিটিভি ও গাড়ির ড্যাশক্যাম ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

চুরির ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। চেশায়ার পুলিশ আশপাশের এলাকার বাসিন্দা, পথচারী ও গাড়িচালকদের কাছে তথ্য চেয়েছে।

বিশেষ করে সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে অ্যাস্টন লেন ও আশপাশের সড়কে চলাচলকারী কোনো গাড়ির ড্যাশক্যাম ক্যামেরায় সন্দেহজনক লরি বা ব্যক্তির গতিবিধি ধরা পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুরি হওয়া বিয়ার ও দুটি ট্রেলার উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বিপুল পরিমাণ গিনেস চুরির এই ঘটনা ব্রিটেনে পণ্যবাহী ট্রাক ও গুদাম থেকে সংঘবদ্ধ চুরির বিষয়টিকেও নতুন করে সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যবান ও সহজে পুনর্বিক্রয়যোগ্য পণ্য বহনকারী লরিকে লক্ষ্য করে চুরির ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পরিবহন খাতের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ChannelNRB Footer