যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের তিন সামরিক পাইলট নিহত হয়েছেন। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
নিহত তিন পাইলট হলেন মোজতবা বাঘেরি, হামেদ ওকাতি এবং হোসেইন মাহদাভিয়ান। তাদের মধ্যে বাঘেরি ও ওকাতি ইরানের নৌবাহিনীর পাইলট এবং মাহদাভিয়ান বিমানবাহিনীর পাইলট ছিলেন।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতের মার্কিন হামলার দুই দিন পর বৃহস্পতিবার ওই তিন পাইলটের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়। তবে তারা ঠিক কোথায় নিহত হয়েছেন, হামলার সময় কোনো যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছিলেন কি না কিংবা কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ফলে নিহত তিন পাইলট কোন সামরিক স্থাপনায় অবস্থান করছিলেন এবং মার্কিন হামলার মূল লক্ষ্য কী ছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
তিন পাইলটের মৃত্যুর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের আরও সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে তেহরান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তাসনিমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের মার্কিন হামলায় অন্তত ১৩ জন ইরানি সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ ইরানে নিহত ছয় নিয়মিত সামরিক সদস্যের মধ্যে ওই তিন পাইলটও ছিলেন।
এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ প্রদেশে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের চার সদস্য এবং পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে তিন বাসিজ সদস্য নিহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছিল।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন হামলায় অন্তত ১৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চারজন নিহত হওয়ার কথাও ইরানি সূত্র জানিয়েছে।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এসব হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা কঠিন।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে এ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন:







