News Ticker
221.png

ইন্দোনেশিয়ার স্কুলে বিনামূল্যের খাবার খেয়ে ১৭০০ অসুস্থ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২০

শেয়ার

শেয়ার

ইন্দোনেশিয়ার স্কুলে বিনামূল্যের খাবার খেয়ে ১৭০০ অসুস্থ
ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনামূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচির খাবার খেয়ে গত কয়েক দিনে ১,৭০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক খাদ্য বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে চালু করা এই কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি ঘটেছে মধ্য জাভার লাসেমে। সেখানে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে বিনামূল্যের খাবার খাওয়ার পর ৭৫২ শিক্ষার্থী ও ২৫ শিক্ষকসহ মোট ৭৭৭ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে অনেকের ডায়রিয়া ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। স্থানীয় চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

লাসেমের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুহারতুতিক জানান, শিক্ষার্থীদের দেওয়া খাবারের মধ্যে ছিল গ্রিল করা মুরগি। খাবার বিতরণের আগে একজন পরীক্ষক কিছু মুরগির মাংস পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে ওই অংশ আলাদা করে ফেলা হলেও খাবার খাওয়ার পর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, রান্নাঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে মুরগির মাংস ভোর ৩টার দিকে রান্না করা হয়েছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীদের তা পরিবেশন করা হয় দুপুরে। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ এবং পরিবহনের পরিস্থিতি খাবার নষ্ট হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

লাসেমের ঘটনার পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার আরও কয়েকটি এলাকায় একই কর্মসূচির খাবার খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়েছেন।

পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোতে স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে ৬৬৪ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছেন। এছাড়া পূর্ব জাভার নানজুক এলাকায় ৪৯ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রার আগাম অঞ্চলে ২৩৭ জন খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন।

সংসদীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটির সদস্য চার্লস হোনোরিস এসব তথ্য উদ্ধৃত করে বলেছেন, ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, খাবার সংরক্ষণে অনিয়ম ও রান্না করা খাবার দেরিতে পৌঁছানো এ ধরনের ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে।

এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন Komnas HAM জানিয়েছে, নতুন কয়েকটি ঘটনায় চলতি সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ সুলাওয়েসি, মধ্য জাভা, পূর্ব জাভা ও পশ্চিম সুমাত্রাসহ একাধিক অঞ্চলে এসব ঘটনা ঘটেছে। কমিশন খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনাগুলো তদন্ত করতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

কমিশন সংশ্লিষ্ট রান্নাঘরগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখারও আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিরাপদ খাবার পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ এবং বড় পরিসরে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর শিশুদের অপুষ্টি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে বিনামূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি চালু করেন। কর্মসূচিটি দেশটির কোটি কোটি শিশু ও অন্যান্য উপকারভোগীর কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ। তবে শুরু থেকেই বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হয়ে আসছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন আইনপ্রণেতার উদ্ধৃত স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচি চালুর পর থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এই বড় সংখ্যাটির মধ্যে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত—কোন ধরনের ঘটনা কীভাবে গণনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা প্রয়োজন। 

সিদোয়ারজোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একটি রান্নাঘরের কার্যক্রম ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় পুষ্টি সংস্থা ঘটনাগুলো তদন্ত করছে এবং খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer