News Ticker
221.png

ছয় সপ্তাহের মধ্যে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩৯

শেয়ার

শেয়ার

ছয় সপ্তাহের মধ্যে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান আকস্মিক ও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড। তাঁর আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়কে কেন্দ্র করে তেহরান এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

জোয়ে হুডের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। 

হুডের মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগে দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে ইরান অপেক্ষাকৃত বড় ও চমকপ্রদ কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়টি তেহরানের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

তিনি আরও বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যদি কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে না পারে, তাহলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব কমে যাবে। তাঁর মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা জোরদার করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমেছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা এবং তেহরানের পাল্টা হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর ইরানও পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, পরিস্থিতি আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতের দিকে যেতে পারে। 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে কোনো কার্যকর আলোচনা চলছিল না এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে চলেছে। 

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যেও ইরানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক সমাধানের আগ্রহের কথা উঠে এসেছে। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি মধ্যস্থতার মাধ্যমে নতুন কোনো সমঝোতার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান বড় ধরনের হামলা চালালে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বাণিজ্যিক নৌপথ এবং ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোও নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়লে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাবে তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer