জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কাগোশিমা প্রিফেকচারের ইয়াকুশিমা দ্বীপে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিপাতে ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতিতে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা সকালে সর্বোচ্চ লেভেল-৫ ভূমিধস জরুরি সতর্কতা জারি করে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (JMA) শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১০ মিনিটে ইয়াকুশিমা শহরের জন্য এই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে। সংস্থাটি জানায়, অতিবৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে কোনো কোনো এলাকায় ভূমিধসের মতো দুর্যোগ ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাসিন্দাদের অবিলম্বে জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
অতিবৃষ্টির ভয়াবহতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে ইয়াকুশিমার ওনোআইদা এলাকায়। সেখানে শনিবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯০.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ওই এলাকার পর্যবেক্ষণ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইয়াকুশিমা শহরের আশপাশে মাত্র এক ঘণ্টায় প্রায় ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছিল জাপানের আবহাওয়া সংস্থা। এ জন্য ‘রেকর্ড স্বল্পমেয়াদি ভারী বৃষ্টিপাত’ সংক্রান্ত সতর্কতাও জারি করা হয়।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, টাইফুন ক্রোভান (Typhoon Krovanh) এবং একটি উষ্ণমণ্ডলীয় নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণ কিউশুতে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর সঙ্গে তৈরি হয়েছে একাধিক ‘লিনিয়ার প্রিসিপিটেশন জোন’, যা দীর্ঘ সময় ধরে একই এলাকায় ভারী বৃষ্টি ঝরাতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ কিউশুর বিভিন্ন এলাকায় আরও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কিছু এলাকায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ভূমিধসের পাশাপাশি নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা, নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে।
তীব্র আবহাওয়ার মধ্যেই ইয়াকুশিমায় জারি করা লেভেল-৫ সতর্কতা কয়েক ঘণ্টা পর লেভেল-৪ ভূমিধস ঝুঁকি সতর্কতায় নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সতর্কতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ অতিবৃষ্টিতে মাটি ইতোমধ্যে নরম হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি কমলেও ভূমিধসের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।
কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে পাহাড়ি ঢাল, খাড়া ভূমি ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলেছে। বাইরে বের হওয়া বিপজ্জনক হলে শক্ত ভবনের ওপরের তলায় অথবা পাহাড় ও ঢাল থেকে দূরের কক্ষে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইয়াকুশিমার পাশাপাশি পশ্চিম জাপানের আরও কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া সংস্থা নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবন এবং ভূমিধসের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আগামী কয়েক দিনেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন:







