News Ticker
221.png

ভারতীয় টাটাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে কেনিয়া!

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৭

শেয়ার

শেয়ার

ভারতীয় টাটাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে কেনিয়া!
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটার একটি প্রতিষ্ঠানকে কেনিয়া থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। Tata Chemicals Magadi Limited (TCML)-কে কেনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সোডা অ্যাশ উৎপাদনকেন্দ্র লেক মাগাদি থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেনিয়ার প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করলেও টাটা স্থানীয় অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে প্রত্যাশিত অবদান রাখেনি। বিশেষ করে কাঁচা সোডা অ্যাশ বিদেশে রপ্তানি না করে কেনিয়াতেই প্রক্রিয়াজাত করে কাচ ও অন্যান্য পণ্য তৈরির ব্যবস্থা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি পুরো Tata Group-কে কেনিয়া থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নয়। মূল বিরোধটি Tata Chemicals Magadi-এর লেক মাগাদি অঞ্চলের খনন ও সোডা অ্যাশ ব্যবসাকে ঘিরে।

কেনিয়ার সরকারের সঙ্গে টাটা কেমিক্যালসের বিরোধ নতুন নয়। চলতি বছরের ২৮ জুলাই কেনিয়ার খনি মন্ত্রণালয় Tata Chemicals Magadi-এর খনন কার্যক্রম স্থগিত করে।

সরকারের অভিযোগের মধ্যে ছিল—খনিজ সম্পদের স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজন বা value addition-এর সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব, রয়্যালটি পরিশোধ ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে প্রশ্ন, রপ্তানি-সংক্রান্ত তথ্যের অসামঞ্জস্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত Community Development Agreement বাস্তবায়নে ঘাটতি।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ জমা দিয়ে আইনগত ও নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতা পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

৩ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো প্রকাশ্যে টাটা কেমিক্যালসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—কেনিয়ার মাটির নিচের সম্পদ উত্তোলন করে শুধু বিদেশে পাঠিয়ে দিলে স্থানীয় জনগণ ও অর্থনীতি যথেষ্ট লাভবান হয় না।

বিশেষ করে লেক মাগাদি থেকে উত্তোলিত soda ash স্থানীয়ভাবে আরও প্রক্রিয়াজাত করে কাচ, রাসায়নিক ও অন্যান্য শিল্প গড়ে তোলার দাবি তুলেছে কেনিয়া।

রুটো বলেছেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সম্পদ ব্যবহার করলেও স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত কারখানা, শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। তাই সরকার নতুন বিনিয়োগকারী আনার পরিকল্পনা করছে, যারা স্থানীয়ভাবে কাচ ও রাসায়নিক শিল্প গড়ে তুলবে।

লেক মাগাদি কেনিয়ার কাজিয়াডো কাউন্টিতে অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি সোডা অ্যাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

সোডা অ্যাশ কাচ উৎপাদন, সাবান, ডিটারজেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে কেনিয়া ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ টন সোডা অ্যাশ রপ্তানি করেছে, যার মূল্য ছিল প্রায় ৫৬.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

ফলে এই খাত শুধু টাটা কেমিক্যালসের জন্য নয়, কেনিয়ার রপ্তানি আয় ও শিল্প অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

কেনিয়া সরকারের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় Tata Chemicals Magadi।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা কেনিয়ার প্রযোজ্য আইন ও নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান মেনে চলছে এবং সরকারের উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দিয়েছে।

আগস্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে টাটা কেমিক্যালস জানিয়েছিল, সরকারের নির্দেশের পর তাদের খনন কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে এবং তারা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় আছে। প্রতিষ্ঠানটি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং কর্মী ও স্থানীয় মাগাদি সম্প্রদায়ের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানিয়েছে। 

৪ সেপ্টেম্বরও প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা যথাযথ আইনি ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে চায়। 

টাটাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি ভারতের সঙ্গে কেনিয়ার সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এর আগে কেনিয়া Adani Group-এর প্রস্তাবিত বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছিল।

তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে, ঘটনাটিকে সরাসরি ভারতবিরোধী নীতি হিসেবে দেখার আগে কেনিয়ার সাম্প্রতিক local value addition নীতির দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

নাইরোবি এখন বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন বা রপ্তানি নয়, বরং স্থানীয়ভাবে শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান, কর-রাজস্ব এবং সম্পদের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরির দাবি জোরালো করছে। 

লেক মাগাদিতে সোডা অ্যাশ উত্তোলনের ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। তাই টাটা কেমিক্যালসকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগকে সাধারণ ব্যবসায়িক বিরোধের চেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেনিয়ার সরকার বলছে, দীর্ঘদিনের চুক্তি ও সম্পদ ব্যবহারের বিনিময়ে স্থানীয় পর্যায়ে আরও বড় ধরনের বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন হওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে টাটা কেমিক্যালস বলছে, তারা নিয়ম মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করেছে এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চায়।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer