News Ticker
221.png

নেপালে বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ দিন পর ৬৪ বছরের নারী উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২৯

শেয়ার

শেয়ার

নেপালে বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ দিন পর ৬৪ বছরের নারী উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ার প্রায় ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৬৪ বছর বয়সী এক নেপালি নারী। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দেশটির নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতী এলাকায় উদ্ধারকারীরা তাকে কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়ে থাকা একটি বাড়ির ওপরের তলা থেকে উদ্ধার করেন।

উদ্ধার হওয়া ওই নারীর নাম চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভয়াবহ বন্যার পর তার বাড়ির নিচের কয়েকটি তলা কাদা ও ধ্বংসস্তূপে সম্পূর্ণ ঢেকে যায়। তবে তিনি ভবনের ওপরের অংশে আটকে থেকে বেঁচে ছিলেন। 

গত ২৬ আগস্ট নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। হিমবাহ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক পানির প্রবাহে ভেসে যায় বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু। নুওয়াকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা দেয়।

বন্যার সময় চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা নিজের বাড়িতে ছিলেন। পরে কাদা ও ধ্বংসাবশেষে বাড়িটি প্রায় সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায়। দীর্ঘদিন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

অবশেষে শনিবার উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বাড়িটির ওপরের অংশে তার অবস্থান শনাক্ত করেন। আর্মড পুলিশ ফোর্সের (APF) একটি দল তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে।

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বাড়িটির ওপরের তলায় পৌঁছান। সেখানে নারীটির অবস্থান শনাক্ত করার পর তাকে নিরাপদে বের করে আনা হয়।

পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম The Kathmandu Post জানিয়েছে, চারতলা ভবনটির ওপরের অংশ থেকে ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে উদ্ধার করা হয়। তার উদ্ধারের ঘটনা ভয়াবহ বন্যার মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

৬৪ বছর বয়সী নারীকে উদ্ধারের পাশাপাশি শনিবার নেপালের উদ্ধারকারীরা একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকেও একজন চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করেন।

আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ২২৫ মিটার দীর্ঘ একটি টানেলের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যক্তি প্রায় ১০ দিন ধরে সেখানে আটকে ছিলেন। তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

এর আগের দিন ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকেও দুই নেপালি শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে ভয়াবহ বন্যার প্রায় ১০ দিন পরও ধ্বংসস্তূপ ও টানেলের ভেতর থেকে একের পর এক জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকারীদের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে।

গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ১,৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। 

বন্যায় বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর টানেলে কর্মরত বহু শ্রমিকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী দলগুলো এসব এলাকায় অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। 

নেপালের সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরাও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছেন। ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দলগুলোও উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

প্রতিকূল পরিবেশ, কাদামাটি, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও ১০ দিন পর ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচেও এখনো প্রাণের সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

ChannelNRB Footer