ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রায় তিন বছর আগে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৫৫ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা সবাই মালকা পরিবারের সদস্য। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জেইতুন এলাকায় মালকা পরিবারের বাড়িটিতে হামলা চালানো হয়। ওই সময় হামলা থেকে বাঁচতে পরিবারের সদস্যরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
হামলার পর ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। ভেতরে থাকা মানুষজনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা কর্নেল মুহাম্মদ আবু দান জানান, গত ৭২ ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ৬০ জনের বেশি মানুষের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছিলেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৫ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রায় তিন বছর ধরে মালকা পরিবারের সদস্যদের স্বজনরা প্রিয়জনদের কোনো সন্ধান না পেয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ আটকে থাকায় তাদের দাফনও সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকারীদের সাম্প্রতিক অভিযানে একে একে দেহাবশেষ বেরিয়ে আসায় পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ শনাক্ত করে যথাযথ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষের মরদেহ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের ঘাটতি থাকায় এসব মরদেহ বের করতে দীর্ঘ সময় লাগছে।
জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। মে মাসে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছিল, প্রায় ৮ হাজার মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারে এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
এর আগে আগস্টের শুরুতেও গাজা সিটির সাবরা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ১১২ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল। তারাও ২০২৩ সালের হামলায় নিহত হয়েছিলেন।
গাজায় যুদ্ধের সময় ধ্বংস হওয়া ভবনগুলো এখন শুধু বসতবাড়ি বা স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ নয়—অনেক পরিবারের কাছে এগুলো স্বজন হারানোর শেষ স্মৃতি। দীর্ঘ সময় পর ধ্বংসস্তূপ সরালে প্রায়ই নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহ বা দেহাবশেষ উদ্ধার হচ্ছে।
মালকা পরিবারের ৫৫ সদস্যের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনাটিও গাজায় যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের প্রায় তিন বছর পরও বহু পরিবার তাদের স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন:







