তুরস্কের মুগলা প্রদেশের মিলাসে তিন দিনব্যাপী জমকালো বিয়ের পর নববধূর বিরুদ্ধে কয়েক কোটি তুর্কি লিরা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও উপহার হিসেবে পাওয়া অর্থ নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উজবেকিস্তানের নাগরিক ওই নববধূকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, সব গহনা তিনি নেননি।
তুরস্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিলাসের চোমাকদাগ কিজিলাগাচ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফা আতেশওগ্লু ও উজবেকিস্তানের নাগরিক মামুরা বুরখোনোভার বিয়ে হয়। ঐতিহ্যবাহী রীতিতে আয়োজিত বিয়েটি চলে টানা তিন দিন তিন রাত। এতে তুরস্কের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক অতিথি অংশ নেন। বিয়ের আয়োজনের অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী রাতের তেলমাখা কুস্তিরও আয়োজন করা হয়েছিল।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, নববধূ বাড়িতে নেই। একই সময়ে বিয়েতে নববধূকে পরিয়ে দেওয়া স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান উপহারও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করে পরিবারটি।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়েতে পাওয়া গহনা ও স্বর্ণের মোট মূল্য প্রায় ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন তুর্কি লিরা—বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। নববধূ ওই মূল্যবান সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে চলে গেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
গহনা ও নববধূকে খুঁজে না পাওয়ার পর আতেশওগ্লু পরিবার মিলাসের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করে। এরপর প্রসিকিউটরের নির্দেশে মিলাস জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ নববধূর অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি নিখোঁজ বলে দাবি করা স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর সন্ধানেও অভিযান চালায়। ঘটনাটি ব্যক্তিগতভাবে সংঘটিত কোনো অপরাধ, নাকি পরিকল্পিত কোনো প্রতারণার অংশ—সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে মামুরা বুরখোনোভা গহনা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, বিয়েতে পাওয়া সব গহনা তিনি নিয়ে যাননি।
তুরস্কের -এর প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন তিনি তাঁর মায়ের ইকিজতাশ এলাকার বাড়িতে যান। তাঁর দাবি, সঙ্গে তিনি মাত্র ২০টি চতুর্থাংশ স্বর্ণমুদ্রা (quarter gold) এবং ২২৬ হাজার তুর্কি লিরা নগদ অর্থ নিয়েছিলেন। বাকি গহনাগুলো তাঁর শ্বশুরের কাছে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বুরখোনোভা আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী নিয়মিত তাঁকে হুমকি ও গালাগাল করতেন। এ কারণে তিনি ভয় পেয়েছিলেন এবং আগে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারেননি বলে তাঁর বক্তব্য।
নববধূকে আটক করার পর তাঁর মায়ের বাড়িতেও পুলিশ তল্লাশি চালায়। তবে সেখানে অভিযোগে উল্লেখ করা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার বা অন্যান্য নিখোঁজ সামগ্রী পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নববধূও তাঁর স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে হুমকি ও গালাগালের অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:







