ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ভবনটি শিক্ষার্থীদের পেইং গেস্ট (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দুর্ঘটনার সময় ভবনটির ভেতরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ফোন করে উদ্ধারের আকুতিও জানিয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকট শব্দে ভবনটি ভেঙে পড়ার পর আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ, দমকল ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
ভবনটিতে মূলত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পিজি হিসেবে থাকতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে পারেন। তবে ঠিক কতজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আটকে পড়া ব্যক্তিদের ফোনকল পেয়েছেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত কয়েকজন জীবিত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত বের করে আনার চেষ্টা করছেন।
সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা এক থেকে দুইজন বলা হয়েছে। কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অন্তত কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহত ও আটকে পড়াদের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
দিল্লি পুলিশ, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF) এবং অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। সরু ও ঘনবসতিপূর্ণ গলির কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ভবনটি প্রায় কয়েক দশক পুরোনো বলে স্থানীয়দের দাবি। দুর্ঘটনার আগে ভবনের বেসমেন্টে নির্মাণ বা মেরামতের কাজ চলছিল বলে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বেসমেন্টে পানি জমে ভবনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কাও স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন। তবে ভবন ধসের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
সত্য নিকেতন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি হওয়ায় এলাকাটি শিক্ষার্থীদের আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। দুর্ঘটনার পর আশপাশের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার অভিযানে স্থানীয়রাও সহায়তা করছেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা দ্রুত শেষ করার জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন:







