ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এসব দেহাবশেষ উদ্ধারের পর রোববার তাদের জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। কয়েকটি পরিবারের বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন। উদ্ধারকাজ এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের কাছে মরদেহ ও দেহাবশেষ হস্তান্তর করা হয়।
রোববার জেইতুনের ইমাম আল-শাফি মসজিদের সামনে থেকে জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। নিহতদের স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। পরে শোকযাত্রা নিয়ে মরদেহগুলো শহীদ কবরস্থানের দিকে নেওয়া হয়।
ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো মরদেহ ও দেহাবশেষের পাশে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে সম্মিলিত কবরের ব্যবস্থা করে সেগুলো দাফন করা হয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬০ জন শিশু ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যায়নি; হাড়ের টুকরো ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে ২০২৩ সালের নভেম্বরের হামলায় নিহত হন। ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িগুলোর নিচে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মরদেহ আটকে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর সুযোগ তৈরি হলে উদ্ধারকাজ আবারও জোরদার করা হয়।
এর আগের দিন, ৫ সেপ্টেম্বর জেইতুন এলাকার একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের ৫৫ জনের দেহাবশেষ উদ্ধারের খবর জানানো হয়েছিল। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছিল, ওই পরিবারের সদস্যরা ২০২৩ সালের নভেম্বরের হামলার সময় বাড়িটির ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে সিভিল ডিফেন্সের প্রধান রায়েদ আল-দাহশানের বরাতে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে কয়েক হাজার নিখোঁজ মানুষের দেহ উদ্ধারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব।
তবে উদ্ধারকারীদের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারী খননযন্ত্র, সুরক্ষা সরঞ্জাম ও অনুসন্ধান-সরঞ্জামের ঘাটতি। ধ্বংসস্তূপের নিচে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ভবনগুলোতে কাজ করাও উদ্ধারকর্মীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, কোন বাড়িতে কারা ছিলেন—এ তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সহায়তায় দেহাবশেষ শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার করা সামগ্রী ও দেহাবশেষ আলাদাভাবে নথিভুক্তও করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন এখনো স্পষ্ট। যুদ্ধবিরতির পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজ শেষ হয়নি। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থা বারবার ধ্বংসস্তূপ সরাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং মানবিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৬৫১-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯২ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন:







