ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানিবাহী একটি ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৭ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দেশটির কুর্দিস্তান প্রদেশের সানান্দাজ শহরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) জানিয়েছে, ট্যাংকারটি সানান্দাজের কাছে একটি ট্রাফিক পুলিশ স্টেশনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এরপর ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ট্যাংকারটির ব্রেক সিস্টেমে ত্রুটি থাকার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় গভর্নরের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্যাংকারটি হামাদান থেকে মারিভানমুখী পথে যাচ্ছিল। পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ট্যাংকারটি অন্য যানবাহনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর ট্যাংকারে আগুন ধরে গেলে আগুন আশপাশের কয়েকটি গাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।
দুর্ঘটনার পর জরুরি উদ্ধারকারী দল ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন। আহত ৭ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১০ এবং আহতের সংখ্যা ৬ বলা হয়েছিল। পরে কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ এবং আহতের সংখ্যা ৭ হয়েছে।
সানান্দাজ এলাকায় এর আগেও জ্বালানি ট্যাংকারকে ঘিরে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালে একই এলাকার কাছে একটি জ্বালানি ট্যাংকার ও আন্তঃনগর যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছিলেন।
নতুন দুর্ঘটনার পর দেশটির সড়ক নিরাপত্তা এবং জ্বালানিবাহী ভারী যানবাহনের যান্ত্রিক সক্ষমতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।
ইরানে সড়ক দুর্ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের জননিরাপত্তা সমস্যা। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে প্রতিবছর সড়ক ও যানবাহন দুর্ঘটনায় ১৭ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো ও অনিরাপদ যানবাহন, ট্রাফিক আইন না মানা এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দেশটির সড়ক দুর্ঘটনায় উচ্চ মৃত্যুহারের অন্যতম কারণ।
সূত্র: এবিসি নিউজ
আরও পড়ুন:







