News Ticker
221.png

পরিবারের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মাঝেই জীবিত উদ্ধার নেপালি নারী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৬

শেয়ার

শেয়ার

পরিবারের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মাঝেই জীবিত উদ্ধার নেপালি নারী
ছবি: সংগৃহীত

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মারা গেছেন—এমনটা ধরে নিয়ে এক বৃদ্ধা নারীর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শুরু করেছিল তার পরিবার। কিন্তু সেই শোকের আনুষ্ঠানিকতা চলার মাঝেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ওই নারীকে। বন্যার প্রায় ১০ দিন পর তার জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় বিস্মিত স্বজন ও উদ্ধারকারীরা।

উদ্ধার হওয়া ওই নারীর নাম চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা। নেপালের বেত্রাবতী গ্রামের একটি বিধ্বস্ত চারতলা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের সংকীর্ণ ফাঁকে পানি ও কাদার মধ্যে আটকে ছিলেন তিনি। সেখানে একটি ছোট ফাঁকা জায়গায় বাতাসের ব্যবস্থা থাকায় তিনি এতদিন বেঁচে থাকতে পেরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল জানান, বন্যার প্রবল স্রোতে চারতলা বাড়িটি ভেসে গিয়ে কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে যায়। উদ্ধারকারীরা ওই এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ভেতর থেকে ক্ষীণ কণ্ঠে ‘আমাকে বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনতে পান।

এরপর শব্দের উৎস শনাক্ত করে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রায় ৪৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় উদ্ধারকারীরা সংকীর্ণ জায়গা থেকে চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে জীবিত বের করে আনেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য নেপালি সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

চান্দিকা শ্রেষ্ঠার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার ধরে নিয়েছিল, ভয়াবহ বন্যায় তিনি মারা গেছেন। সেই ধারণা থেকেই স্বজনরা তার জন্য ১১ দিনের শোক ও শ্রাদ্ধের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিলেন।

কিন্তু ওই আনুষ্ঠানিকতা চলার সময়ই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তার জীবিত থাকার খবর আসে। পরিবারের জন্য এটি শোক থেকে আনন্দে ফিরে আসার এক অবিশ্বাস্য মুহূর্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ কর্মকর্তা দারনালও জানিয়েছেন, তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং তারা ইতোমধ্যে শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে দিয়েছিল। 

গত আগস্টে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। বিশেষ করে ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিভিন্ন জনপদে বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

বেত্রাবতীও দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সেখানে অনেক ভবন কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়। উদ্ধারকারীরা এখনও ভবনের ফাঁক, ধ্বংসস্তূপ ও বিভিন্ন সুড়ঙ্গে জীবিত মানুষের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছেন।

দুর্যোগের পর সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে। তবুও চান্দিকা শ্রেষ্ঠার মতো ঘটনা উদ্ধারকারীদের নতুন করে আশাবাদী করেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নেপালের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা ও সুড়ঙ্গ থেকেও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে থাকলে তাদের খুঁজে বের করতে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। 

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer