News Ticker
221.png

মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো প্লেন বিধ্বস্ত, নিহত ৫

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৩

শেয়ার

শেয়ার

মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো প্লেন বিধ্বস্ত, নিহত ৫
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে অবতরণের সময় অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের ফ্লাইট ৭৫৯৮ রানওয়ে অতিক্রম করে বাইরে চলে যায়। পরে বিমানটি একাধিক স্থলযানে ধাক্কা দিলে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দর এলাকায় ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল একটি বোইং ৭৬৭-৩০০ কার্গো বিমান। এটি অ্যামাজনের জন্য পরিচালনা করছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ২১ এয়ার। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছিল। অবতরণের সময় এটি রানওয়ে-৩০ অতিক্রম করে বিমানবন্দরের বাইরের এলাকায় চলে যায়।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি একটি সড়ক পার হয়ে কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করে। এরপর সেটিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় বিমানটির পাইলট ও কো-পাইলট ককপিটে আটকা পড়েছিলেন এবং উদ্ধারকারীরা তাদের উদ্ধারে অভিযান চালান। 

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ বিভাগের ৬০টির বেশি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে। বিমানটিতে আগুন জ্বলছিল এবং ব্যাপক ধোঁয়া সৃষ্টি হয়েছিল। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের সবাই বিমানটির আরোহী ছিলেন কি না, নাকি তাদের কেউ মাটিতে থাকা অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। নিহত ও আহতদের পরিচয়ও প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। 

দুর্ঘটনায় আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় একটি ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। অন্য দুজনকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনাস্থল ছিল জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মধ্য থেকে আহতদের বের করে আনার কাজ করতে হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে ‘গ্রাউন্ড স্টপ’ জারি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। 

মার্কিন পরিবহন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সম্ভাব্য বিলম্ব ও ফ্লাইট পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেয়।

বিমানটি কেন রানওয়ে অতিক্রম করে বাইরে চলে গেল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA)।

প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা বিমানটি রানওয়ের কতটা দূরে গিয়ে অবতরণ করেছিল, অবতরণের সময় বাতাসের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারিগরি ও পরিচালনাগত বিষয় খতিয়ে দেখছেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। 

অ্যামাজনের মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি জানতে তদন্তে সহযোগিতা করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা ও সহায়তাকেই এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। 

বিমানটি প্রায় ৩২ বছরের পুরোনো ছিল এবং আগে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পর ২০১৫ সালে কার্গো বিমানে রূপান্তর করা হয়েছিল বলে তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিমানের বয়সের সঙ্গে দুর্ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। 

সূত্র: আল জাজিরা

ChannelNRB Footer