News Ticker
221.png

নেপালে বন্যা: জলবিদ্যুৎ টানেলে ১২১ জন আটকা পড়ার শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৮

শেয়ার

শেয়ার

নেপালে বন্যা: জলবিদ্যুৎ টানেলে ১২১ জন আটকা পড়ার শঙ্কা

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে ১২১ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে দেশটির সেনাবাহিনী। ধ্বংসস্তূপে বন্ধ হয়ে যাওয়া টানেলগুলোতে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে।

২৬ আগস্ট হিমবাহ ও পাহাড়ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্ত হয়। বন্যার প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর ও বরফের বিশাল স্তূপ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন অংশে ঢুকে পড়ে। এতে বহু কর্মী নিখোঁজ হন এবং টানেলের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায়। 

নেপালি সেনাবাহিনীর হিসাবে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে প্রায় ৯০০ কর্মীর নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে নিখোঁজ সবাই যে টানেলের ভেতরে ছিলেন, এমনটি নয়।

সেনাবাহিনীর সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ১২১ জন টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। অন্যরা প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে কাজ করার সময় নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন।

রসুয়া জেলার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় জ্বালানি ও জলবিদ্যুৎবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ১২১ জনের মধ্যে প্রায় ৫০ জন আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের টানেলে এবং প্রায় ৪০ জন আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের টানেলে থাকতে পারেন।

এ ছাড়া লাংটাং খোলা, চিলিমে, রাসুওয়াগাধি ও ত্রিশূলী-৩বি প্রকল্পের টানেলেও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এসব সংখ্যা আনুমানিক। উদ্ধার অভিযান ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য যাচাইয়ের পর প্রকৃত সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ টানেলে ঢুকে পড়েছে। ফলে উদ্ধারকারীদের প্রথমে টানেলের মুখ ও ভেতরের বাধা সরাতে হচ্ছে।

ভারী যন্ত্রপাতি, খননযন্ত্র এবং অন্যান্য বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধাপে ধাপে পথ পরিষ্কার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ব্যবহার করেও ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা হয়েছে। 

উদ্ধার অভিযানে নেপালের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারী দলও সহায়তা করছে। দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে বড় আশার খবর আসে ৪ সেপ্টেম্বর। আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

তারা প্রায় নয় দিন টানেলের ভেতরে আটকে ছিলেন। উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতর থেকে শব্দ পাওয়ার পর তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে উদ্ধার করে দুজনকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর সেনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

এই ঘটনা উদ্ধারকারী দল ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও টানেলের ভেতরে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

২৬ আগস্টের দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বরের রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা ১,৩৮০ ছাড়িয়েছে এবং ৫,৫০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের রসুয়া ও নুয়াকোটসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বহু সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এতে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিপর্যয়ের মাত্রা মোকাবিলায় নেপাল সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। উদ্ধার অভিযানের জন্য ড্রোন, ভারী যন্ত্রপাতি, অস্থায়ী সেতু নির্মাণের সরঞ্জাম, ডিএনএ কিট এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রীর প্রয়োজন রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। 

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer