রাশিয়ার উত্তর ককেশাস অঞ্চলের কাবার্ডিনো-বালকারিয়া প্রজাতন্ত্রে ভয়াবহ তুষারধসে অন্তত ১১ জন পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন এবং ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড ও নতুন করে তুষারধসের আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় জরুরি পরিষেবা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে উত্তর ককেশাসের অন্যতম উঁচু শৃঙ্গ মিঝিরগি পর্বতের ঢাল থেকে তুষারধস নেমে আসে। ওই সময় সেখানে ৩৩ জন পর্বতারোহীর একটি দল অবস্থান করছিল। মুহূর্তের মধ্যে তুষার ও বরফের স্রোত দলটির ওপর আছড়ে পড়ে।
জরুরি পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা পর্যন্ত ১০ জন পর্বতারোহী নিজেদের চেষ্টায় পাহাড় থেকে নিরাপদে নিচে নেমে আসতে সক্ষম হন। তবে ছয়জনের অবস্থান তখনও নিশ্চিত করা যায়নি। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, তুষারধসে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তুষারধসের খবর পাওয়ার পর ৫০ জনের বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে পাহাড়ি এলাকার কঠিন ভূপ্রকৃতি এবং যেকোনো সময় নতুন করে তুষারধসের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
উদ্ধারকারীরা নিখোঁজ পর্বতারোহীদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে।
মিঝিরগি পর্বত রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের অন্যতম উঁচু পর্বতশৃঙ্গ। এটি কাবার্ডিনো-বালকারিয়া অঞ্চলের বেজেঙ্গি এলাকায় অবস্থিত এবং পর্বতারোহীদের কাছে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং আরোহণপথ হিসেবে পরিচিত।
প্রাথমিকভাবে তুষারধসের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তবে পাহাড়ের তুষার ও বরফের স্তর ভেঙে আকস্মিকভাবে নিচে নেমে আসার ফলেই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজ ছয় পর্বতারোহীর সন্ধান এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







