News Ticker
221.png

সৌদির জ্বালানি স্থাপনাসহ বিভিন্ন শহরে ইয়েমেন থেকে ব্যাপক হামলা হুতিদের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:১৯

শেয়ার

শেয়ার

সৌদির জ্বালানি স্থাপনাসহ বিভিন্ন শহরে ইয়েমেন থেকে ব্যাপক হামলা হুতিদের
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চালানো এসব হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হামলায় কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং কিছু স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনবিষয়ক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান শহরে হামলা হয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন।

সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জ্বালানি খাতের স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে জরুরি ও অগ্নিনির্বাপণ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলার কারণে কিছু জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বিপর্যয় তৈরি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়।

হুথি গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্রের দাবি, সৌদি আরবের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থাপনার পাশাপাশি সামরিক অবস্থানও হামলার লক্ষ্য ছিল। 

হুথিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার সব লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরানে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ, আহতদের উদ্ধার এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে জরুরি দল কাজ করে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাও আক্রান্ত হয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ ৭৩ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। 

হামলার ঘটনাকে গুরুতর ও বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এর ফলে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপরও চাপ দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। 

সূত্র: রয়টার্স

 

ChannelNRB Footer