News Ticker
221.png

হরমুজে চালকহীন মার্কিন সাবমেরিন আটকের দাবি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:১৫

শেয়ার

শেয়ার

হরমুজে চালকহীন মার্কিন সাবমেরিন আটকের দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন চালকবিহীন জলযান বা জল-ড্রোন জব্দের ইরানি দাবিতে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (UUV) বা চালকবিহীন ডুবোজাহাজ জব্দ করেছে।

তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে ড্রোনটি সত্যিই জব্দ হয়েছে কি না, সেটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আইআরজিসির নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালির মুখে ওই মার্কিন চালকবিহীন জলযানটি আটক করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এটি একটি অত্যাধুনিক সামরিক নজরদারি প্ল্যাটফর্ম, যা সমুদ্রের নিচে পরিচালিত হতে পারে।

ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। গত কয়েক দিনে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক ও সামরিক তৎপরতার অভিযোগ তুলেছে।

চালকবিহীন জলযান বা আন্ডারওয়াটার ড্রোন আধুনিক নৌযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সমুদ্রের নিচে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সামুদ্রিক পথ পর্যবেক্ষণ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় তৎপরতা চালানো সম্ভব।

তাই ইরানের দাবি সত্য হলে, হরমুজ প্রণালির মতো অত্যন্ত কৌশলগত এলাকায় একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবোজাহাজ আটক হওয়ার ঘটনা দুই দেশের সামরিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে চালকবিহীন নৌযান ব্যবহার করে হামলার দাবি করেছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, তিনটি Corsair unmanned surface vessel ব্যবহার করে বান্দার আব্বাস নৌঘাঁটির একটি জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা ও একটি সাবমেরিনে হামলা চালানো হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকি বেড়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানায়। এর জবাবে ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামুদ্রিক স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেয়। 

ইরানের কর্মকর্তারা একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন ‘মেরিটাইম এক্সক্লুশন জোন’ বা সামুদ্রিক নিষিদ্ধ এলাকা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। তেহরানের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন জ্বালানি ও সামুদ্রিক অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। 

সামরিক উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও পড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে; আগের দিন এই সংখ্যা ছিল আটটি। একই সময়ে কিছু জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও চাপ তৈরি করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইরানের আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে মার্কিন জল-ড্রোন জব্দের দাবি করা হলেও, ঘটনাটির স্বাধীন কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer