News Ticker
221.png

কাদা-ইটের ব্লক, কাঠ ও প্লাস্টিক দিয়ে গাজার ধ্বংসস্তূপ পুনর্নির্মাণ করছে ফিলিস্তিনিরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২৬

শেয়ার

শেয়ার

কাদা-ইটের ব্লক, কাঠ ও প্লাস্টিক দিয়ে গাজার ধ্বংসস্তূপ পুনর্নির্মাণ করছে ফিলিস্তিনিরা
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর আবারও ঘর বাঁধার চেষ্টা করছেন ফিলিস্তিনিরা। গাজায় নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের মধ্যে বাসস্থান ও দোকান পুনর্নির্মাণে কাদামাটির তৈরি ইট, কাঠ, কাপড় ও প্লাস্টিক ব্যবহার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই ধ্বংস হয়ে যাওয়া পুরোনো বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপরই নতুন করে ছোট ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন।

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে, প্রচলিত নির্মাণসামগ্রী না থাকায় মানুষ নিজেরাই কাদা সংগ্রহ করে ইট তৈরি করছেন। মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবিরে বাসিন্দাদের হাতে কাদামাটির ইট তৈরির দৃশ্যও দেখা গেছে। প্লাস্টিকের পাত্রে পানি এনে কাদার সঙ্গে মিশিয়ে এসব ইট তৈরি করছেন তারা।

যুদ্ধের কারণে গাজার অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর সরবরাহ সীমিত থাকায় ধ্বংস হওয়া বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করা স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে কাদামাটির ইট অনেকের কাছে সহজলভ্য ও তুলনামূলক সস্তা বিকল্প হয়ে উঠেছে। বাসিন্দারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ইট তৈরি করে ছোট ছোট কক্ষ ও দেয়াল নির্মাণ করছেন। কোথাও কাঠের কাঠামোর সঙ্গে কাপড় ও প্লাস্টিক ব্যবহার করেও ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও ঘর মেরামত করা হচ্ছে।

গাজার অনেক এলাকায় যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ এখনো সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে কিছু পরিবার সেই ধ্বংসস্তূপের ওপরই নতুন কাঠামো তৈরি করছে।

এপি প্রকাশিত ছবিতে গাজা সিটির এক পরিবারের ১১ বছর বয়সী শিশু জুলিয়া জুদেহকে তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপর নির্মিত নতুন কাঠের ঘরে উঠতে দেখা গেছে। তার পরিবারের পুরোনো বাড়িটি যুদ্ধে ধ্বংস হয়েছিল। 

মধ্য গাজার নুসেইরাত এলাকাতেও কাদামাটির ইট দিয়ে কক্ষ তৈরির কাজ চলছে। বাসিন্দাদের জন্য এসব ঘর স্থায়ী সমাধান নয়; বরং তাঁবু বা খোলা আকাশের নিচে থাকার চেয়ে সাময়িকভাবে নিরাপদ আশ্রয় তৈরির একটি চেষ্টা।

যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজায় বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে আছে। আল জাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজও অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। 

ফলে একদিকে যেমন নতুন করে বসতবাড়ি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপ অপসারণ ও প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী পাওয়া—দুই ক্ষেত্রেই বড় বাধা রয়েছে।

সূত্র: এপি নিউজ 

ChannelNRB Footer