সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে একটি অস্থায়ী অস্ত্র ও যুদ্ধাবশেষ সংরক্ষণাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইদলিবের স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সর্মাদা শহরের কাছে এ বিস্ফোরণ ঘটে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য বিভাগের বরাত দিয়ে নিহত ও আহতের এই সংখ্যা জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
বিস্ফোরণটি ঘটে ইদলিবের সর্মাদা শহরের কাছের বুর্জ আল-নিমরা এলাকায়। ওই স্থাপনাটি ছিল অস্ত্র, গোলাবারুদ ও দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবশিষ্ট সামগ্রী রাখার একটি অস্থায়ী গুদাম। সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব অস্ত্র ও যুদ্ধাবশেষ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আগে সাময়িকভাবে সেখানে রাখা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি ছোট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপরই ঘটে বড় বিস্ফোরণ। পরে গুদামে থাকা গোলাবারুদের কারণে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী তৈরি হয় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের পরপরই সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স, দমকল বাহিনী ও সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে গুদামে থাকা গোলাবারুদের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের কারণে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
নিরাপত্তার কারণে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়া সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য জীবিতদের সন্ধান করছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের একজন আলোকচিত্রী ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধার করতে দেখেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিস্ফোরণের মূল কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে ইদলিবের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের জরুরি কার্যক্রমের প্রধান ওয়ালিদ আসলান জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে গোলাবারুদের বিস্ফোরণ থেকেই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিস্ফোরণে তাদের কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন। তবে কীভাবে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সিরিয়া ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গেছে। ইদলিব ছিল সেই সংঘাতের অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে অঞ্চলটিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিস্ফোরিত গুদামে মূলত ওই দীর্ঘ যুদ্ধ থেকে অবশিষ্ট অস্ত্র ও যুদ্ধসামগ্রী রাখা হয়েছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এসব বিপজ্জনক সামগ্রী সরিয়ে নেওচলতি সেপ্টেম্বরেই ইদলিবে এটি দ্বিতীয় বড় প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ। এরয়া ও নিরাপদে সংরক্ষণ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
চলতি সেপ্টেম্বরেই ইদলিবে এটি দ্বিতীয় বড় প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর ইদলিবের বিনিশ শহরে গোলাবারুদ বহনকারী একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই প্রদেশে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংশ্লিষ্ট দুটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ ঘটল।
সর্মাদার কাছের বিস্ফোরণস্থলটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় থাকা যানবাহন ও স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় এক মেকানিকের অভিযোগ, জনবসতি ও দোকানের কাছাকাছি অস্ত্রের গুদাম রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের স্থাপনা থেকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
২০২৪ সালের শেষ দিকে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়া নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। তবে যুদ্ধের অবশিষ্ট অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী এখনো দেশটির জন্য বড় নিরাপত্তা সমস্যা হয়ে আছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







