News Ticker
221.png

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৪৭

শেয়ার

শেয়ার

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা
ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা। দেশ তিনটি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। একই উদ্যোগে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ যুক্ত হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঘোষিত এই পদক্ষেপকে ইসরায়েলের বসতি নীতির বিরুদ্ধে পশ্চিমা মিত্রদের অন্যতম কঠোর সমন্বিত অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বলেছে, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ফিলিস্তিনিদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে দুর্বল করছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন শিল্প ও কৃষিপণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। যুক্তরাজ্য একই সঙ্গে বসতি নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। 

বাণিজ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তা ইসরায়েলের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে না বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের বসতি নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা জোরালো হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এসব দেশ মনে করে, নতুন বসতি এবং বিদ্যমান বসতিগুলোর সম্প্রসারণ একটি স্বাধীন ও কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। 

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আরও কঠোর ভাষায় কথা বলেছেন। লন্ডন জানিয়েছে, তাদের পদক্ষেপ ইসরায়েলি জনগণ বা ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা যে বসতি কার্যক্রমকে বিবেচনা করে, তার বিরুদ্ধে।

মিত্র দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইসরায়েল কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের পর ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে এবং কয়েকজন ব্রিটিশ রাজনীতিকের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা'আর নিষেধাজ্ঞাকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরের বসতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার সঙ্গে একমত নয় এবং বসতিগুলোর বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে। ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) মতামতও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতি ও বসতি নীতিকে ঘিরে গুরুতর আইনি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তবে ইসরায়েল এই আইনি ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে।

ফ্রান্স ও কানাডাও সাম্প্রতিক সময়ে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জুনে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও নরওয়েসহ কয়েকটি দেশ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞার সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে। পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হওয়া পণ্যের পরিমাণ ইসরায়েলের সামগ্রিক বাণিজ্যের তুলনায় খুবই কম। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়ে এর রাজনৈতিক বার্তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে একাধিক দেশের একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দীর্ঘদিনের মিত্রদের এমন পদক্ষেপ ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডাসহ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশগুলো পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ই তীরে ক্রমাগত বসতি সম্প্রসারণের ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড খণ্ডিত হয়ে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে একটি কার্যকর ফিলিস্তিনিসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, পশ্চিম তীরে ক্রমাগত বসতি সম্প্রসারণের ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড খণ্ডিত হয়ে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer