News Ticker
221.png

সিরিয়ায় অস্ত্র গুদামে বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৬

শেয়ার

শেয়ার

সিরিয়ায় অস্ত্র গুদামে বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত
ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে একটি অস্ত্র ও যুদ্ধসামগ্রীর গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সারমাদা শহরের কাছে এ বিস্ফোরণ ঘটে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছে। 

বিস্ফোরণের সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুদামটিতে অস্ত্র ও যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

বিস্ফোরণটি ঘটে ইদলিব প্রদেশের সারমাদা শহরের কাছে একটি অস্থায়ী অস্ত্র গুদামে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রথমে ছোট একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণ পরই বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি ছোট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিস্ফোরণের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা দেখতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স ও সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালান।

এপি জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। 

আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুদামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওই স্থাপনায় দেশটির দীর্ঘ সংঘাতের সময়ের অস্ত্র ও যুদ্ধসামগ্রীর অবশিষ্টাংশ রাখা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এগুলো একটি অস্থায়ী গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল।

২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সামগ্রী ছড়িয়ে রয়েছে। এসব সামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণ ও অপসারণ দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সিরিয়ার কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত বিস্ফোরণের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা ব্যক্তিকে দায়ী করেনি।

ফলে এটি দুর্ঘটনা, সংরক্ষিত অস্ত্র বা গোলাবারুদের বিস্ফোরণ, নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সিরিয়ায় এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও যুদ্ধসামগ্রী রয়ে গেছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

সূত্র: এপি নিউজ  

ChannelNRB Footer