পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যসংখ্যা আপাতত বাড়ছে না। জোটের পরিধি সম্প্রসারণের কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে নতুন কোনো দেশকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত করার বিষয়টি পাকিস্তানের বিবেচনায় নেই। খবরটি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্যের বরাতে প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোট এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের একটি কাঠামো। তাই আগে তিন সদস্যদেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সমন্বয় ও সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাজ্জাদ হায়দার খানের ভাষায়, জোটের সম্প্রসারণের বিষয়টি ‘এই মুহূর্তে বিবেচনায় নেই’। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে—এমন দেশগুলোর জন্য চুক্তির দরজা খোলা থাকতে পারে।
অর্থাৎ, সদস্য বাড়ানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। বরং আপাতত জোটের বিদ্যমান কাঠামোকে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জোটের কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং যৌথ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই জোটের কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, সামরিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত কাজ চলছে। পাকিস্তানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এসব প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় চূড়ান্ত না করে নতুন সদস্য নেওয়ার পথে এগোতে চায় না ইসলামাবাদ।
গত ৩১ আগস্ট তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে জোটের কাঠামো ও কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একজন মহাসচিবের নেতৃত্বে এই সচিবালয় পরিচালিত হবে। প্রথম তিন বছরের জন্য পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধি মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এর আগে বলেছিলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে নতুন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, জোটটি ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েই গড়ে তোলা হয়েছে।
পাকিস্তানের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি এখনই নয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিন সদস্যদেশের মধ্যে একই ধরনের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকা দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে চুক্তির দরজা উন্মুক্ত হতে পারে। তবে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জোটের বর্তমান কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
এর আগে মক্কা জোট সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মিসরসহ কয়েকটি মুসলিম দেশের নাম আলোচনায় এসেছিল। এমনকি জোটের প্রথম বৈঠকের পর তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও জোট উন্মুক্ত হতে পারে।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়ে বাংলাদেশেও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল, ঢাকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পায়নি।
তবে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। জোটে যোগ দিলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ার সম্ভাবনার কথা বিশ্লেষকেরা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটকে পাকিস্তান শুরু থেকেই একটি প্রতিরোধমূলক বা প্রতিরক্ষামূলক সামরিক কাঠামো হিসেবে তুলে ধরছে। এর মূল লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
তবে জোটটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা শুধু সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও কৌশলগত সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও তিন দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন:







